কসবা উপজেলা সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে মোহাম্মদ মুরসালিন (২০) ও নবীর হোসেন (৫০) মর্মান্তিকভাবে নিহত হওয়ার ঘটনায় গভীর শোক ও সমবেদনা জানাতে তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর নেতারা। আজ শুক্রবার (২৯ মে) বিকেলে সমবেদনা জানাতে এবং একই সঙ্গে পবিত্র ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা বিনিময় করতে জামায়াতের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল নিহতদের বাড়িতে যান।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য আতাউর রহমান সরকারের নেতৃত্বে জেলা ও উপজেলার প্রতিনিধি দল কসবা সীমান্তে নিহত মুরসালিন ও নবীর হোসেনের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করেন। প্রতিনিধি দলের নেতারা নিহত নবীর হোসেনের মা জাকারিয়া বেগম ও মুরসালিনের পিতার সঙ্গে মতবিনিময় করেন, তাদের খোঁজখবর নেন এবং শোকার্ত পরিবারকে সান্ত্বনা দেন।
এই মানবিক ও রাজনৈতিক সৌজন্য সাক্ষাতের সময় উপস্থিত ছিলেন— জেলা জামায়াতের যুব বিষয়ক সম্পাদক কাজী সিরাজুল ইসলাম, কসবা উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির শিবলী নোমানী, কসবা পৌরসভা আমির হারুন অর রশীদ, জেলা জামায়াতের প্রচার সম্পাদক সাইফুল্লাহ আল আরিফ, উপজেলা শিবির সভাপতি জাহিদ হাসান ও সেক্রেটারি আহমেদ বাদলসহ স্থানীয় বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী।
পরিবারের সদস্যদের সাথে সাক্ষাৎ শেষে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা আতাউর রহমান সরকার গণমাধ্যমের সামনে বিএসএফের এই নির্মম আচরণের তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, কসবা সীমান্তে সংঘটিত এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এমন দুঃখজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় বাংলাদেশ সরকারের উচিত অবিলম্বে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনার একটি নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক তদন্ত দাবি করা এবং ভারতের কাছে তীব্র প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানানো।
তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হলেও সীমান্ত পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে দেশ যেন ভারতের কাছে নিজের সার্বভৌমত্ব হারিয়েছে। সীমান্তে প্রতিনিয়ত নিরীহ বাংলাদেশিদের পাখির মতো গুলি করে হত্যার এই নিষ্ঠুর ঘটনাগুলো সুস্পষ্টভাবে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের চরম লঙ্ঘন। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, সীমান্তে এই অন্যায় হত্যাকাণ্ড অবিলম্বে বন্ধ না হলে বাংলাদেশের বিপ্লবী ছাত্র-জনতা দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত রক্ষায় নিজেরাই অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করতে বাধ্য হবে।







