ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ পশ্চিমবঙ্গে অবৈধভাবে অবস্থানরত বাংলাদেশি এবং রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারীদের অবিলম্বে ও স্বেচ্ছায় ভারত ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি এক ঘোষণায় জানান, যারা এই নির্দেশ মেনে নিজ উদ্যোগে নিজ দেশে ফিরে যাবে, তাদের বিরুদ্ধে ভারতীয় আইন অনুযায়ী কোনো ধরনের মামলা বা আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। বরং তাদের সীমান্ত পার হয়ে ফিরে যাওয়ার ক্ষেত্রে সব ধরনের প্রশাসনিক সাহায্য ও সহযোগিতা করবে রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকার।
পশ্চিমবঙ্গে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করা বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাদের সাময়িকভাবে আটকে রাখার জন্য ইতোমধ্যে বিভিন্ন জেলায় মোট ১১টি হোল্ডিং সেন্টার বা ডিটেনশন ক্যাম্প তৈরি করা হয়েছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে এসব বিশেষ কেন্দ্রে মোট ৩৮৬ জন অনুপ্রবেশকারী আটক রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৩৩৫ জন আটক রয়েছে উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটে, যেখানে তিনটি আলাদা শিবির খোলা হয়েছে। বাকি জেলাগুলোতে একটি করে শিবির রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
রাজ্যের দক্ষিণবঙ্গের বারুইপুর, সুন্দরবন, বসিরহাট, বনগাঁ, বারাসত, মুর্শিদাবাদ, জঙ্গিপুর ও কৃষ্ণনগরে এবং উত্তরবঙ্গের মালদা, কোচবিহার ও দক্ষিণ দিনাজপুরে এই হোল্ডিং সেন্টারগুলো স্থাপন করা হয়েছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, মুর্শিদাবাদে ১৯ জন, দক্ষিণ দিনাজপুরে ৮ জন, বারুইপুরে ৫ জন, বারাসতে ৩ জন, কোচবিহারে ২ জন, জঙ্গিপুরে ২ জন, কৃষ্ণনগরে ১ জন, বনগাঁয়ে ১ জন, সুন্দরবনে ১ জন এবং মালদায় ৯ জন আটক রয়েছে। বসিরহাটে আটক ৩৩৫ জনের মধ্যে ১৪৮ জন পুরুষ, ৯৯ জন নারী এবং ৮৮ জন শিশু রয়েছে।
নিজের গুজরাট সফরকালে এক সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গে নতুন বিজেপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর রাজ্যের সামগ্রিক সীমান্ত পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে গেছে। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগে যেখানে প্রতিদিন সীমান্ত দিয়ে ৫ থেকে ১০ হাজার অনুপ্রবেশকারী ভারতে প্রবেশ করত, এখন ঠিক উল্টো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এবং প্রতিদিন ৫ থেকে ১০ হাজার মানুষ ভারত ছেড়ে চলে যাচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ও বড় আকারের শনাক্তকরণ অভিযান বা পুশব্যাক শুরুর আগেই অনুপ্রবেশকারীরা নিজ উদ্যোগে ও শান্তিতে বাংলাদেশে ফিরে যাবে।
এদিকে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারের গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ এই বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর ও কড়া মন্তব্য করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, হোল্ডিং সেন্টারে আটকে থাকা এসব মানুষের তিন বেলা খাওয়ার ব্যবস্থা সরকার বেশি দিন চালাবে না। তিনি বলেন, এরা যদি নিজ দেশে ফিরে না যায়, তবে না খেয়ে থাকবে এবং অসুস্থ হয়ে মরবে, যার কোনো দায় রাজ্য সরকার নেবে না। এই প্রসঙ্গে পাকিস্তানের উদাহরণ টেনে তিনি আরও বলেন, পাকিস্তান থেকে যেভাবে চাপ দিয়ে ৬ লাখের বেশি আফগান শরণার্থীকে বের করে দেওয়া হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে থাকা অনুপ্রবেশকারীদের জন্যও ঠিক একই ব্যবস্থা প্রযোজ্য হবে।







