ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদার আসর উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে এক দশক পর আবারও দর্শকেরা অতিরিক্ত সময় ও টাইব্রেকারের এক রোমাঞ্চকর ভাগ্য নির্ধারণী ম্যাচ প্রত্যক্ষ করলেন। শনিবার (৩০ মে) বুদাপেস্টের পুসকাস অ্যারেনায় অনুষ্ঠিত এই টানটান উত্তেজনার ফাইনালে আর্সেনালকে টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা নিজেদের ঘরে তুলেছে প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি)।
ম্যাচের নির্ধারিত ৯০ মিনিট এবং পরবর্তী অতিরিক্ত ৩০ মিনিট শেষেও দুই দলের স্কোরলাইন ১-১ সমতায় থাকায় খেলা শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে গড়ায়। পেনাল্টি শুটআউটে দুই দলের লড়াই সমানতালে চললেও শেষ মুহূর্তে আর্সেনালের গ্যাব্রিয়েল মাগালাইসের শটটি ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে গেলে গানার্সদের স্বপ্ন ভঙ্গ হয়। অন্যদিকে পিএসজির পক্ষে শেষ শটটি সফলভাবে জালে পাঠিয়ে দলকে উল্লাসে ভাসান তরুণ ডিফেন্ডার লুকাস বেরালদো।
অথচ হাইভোল্টেজ এই ম্যাচের শুরুটা কিন্তু দুর্দান্তভাবে করেছিল আর্সেনাল। খেলার মাত্র ষষ্ঠ মিনিটেই মারকুইনহোসের একটি বল ক্লিয়ারেন্স লিয়ান্দ্রো ট্রোসার্ডের গায়ে লেগে জার্মান ফরোয়ার্ড কাই হাভার্টজের সামনে চলে আসে। সুযোগটি হাতছাড়া না করে এক নিখুঁত ফিনিশিংয়ে পিএসজির গোলরক্ষক মাতভেই সাফোনভকে পরাস্ত করে গানার্সদের এগিয়ে নেন হাভার্টজ।
শুরুতেই গোল হজম করে পিছিয়ে পড়লেও ম্যাচ থেকে ছিটকে যায়নি ফরাসি ক্লাব পিএসজি। প্রথমার্ধে উসমান দেম্বেলে ও ফাবিয়ান রুইসরা আক্রমণের ধার বাড়ালেও বিরতির আগে তেমন কোনো স্পষ্ট গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারেননি। উল্টো প্রথমার্ধের ঠিক শেষ মুহূর্তে হাভার্টজ আরও একটি গোলের দারুণ সুযোগ পেয়েছিলেন, যা মারকুইনহোসের রক্ষণভাগের দৃঢ়তায় নস্যাৎ হয়ে যায়।
দ্বিতীয়ার্ধে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক কৌশলে আরও বেশি আক্রমণাত্মক হয়ে মাঠে নামে পিএসজি। ফলশ্রুতিতে ম্যাচের ৬৫ মিনিটে খভিচা কাভারাতস্কেলিয়া বল নিয়ে আর্সেনালের ডি-বক্সে ঢোকার সময় ক্রিশ্চিয়ান মস্কেরার ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। স্পট কিক থেকে গোল করতে কোনো ভুল করেননি উসমান দেম্বেলে এবং তাঁর এই গোলেই সমতায় ফেরে পিএসজি।
ম্যাচে সমতা আসার পর পিএসজি পুরোপুরি ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ শুরু করলেও কাভারাতস্কেলিয়ার একটি শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে এবং ব্রাডলি বারকোলা দুটি সহজ সুযোগ নষ্ট করেন। শেষ দিকে আর্সেনালের ইয়ুরিয়েন টিম্বার ও ভিক্টর গিওকেরেস কিছু পাল্টা আক্রমণ চালালেও গোল করতে ব্যর্থ হন। অতিরিক্ত সময়েও আর কোনো গোল না হওয়ায় অবশেষে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করতে টাইব্রেকারের আশ্রয় নিতে হয়।
টাইব্রেকারে আর্সেনালের এবেরেচি এজের শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হলেও পিএসজির নুনো মেন্দেসের শট ঠেকিয়ে ম্যাচে নাটকীয়তা বজায় রেখেছিলেন গানার্স গোলরক্ষক দাভিদ রায়া। প্রথম চারটি শট শেষে দুই দল সমতায় থাকলেও গ্যাব্রিয়েল মাগালাইসের চূড়ান্ত ব্যর্থতায় শিরোপা হাতছাড়া হয় আর্সেনালের। ২০২৫ সালে প্রথমবারের মতো ইউরোপসেরা হওয়ার পর ২০২৬ সালের এই শিরোপা ধরে রেখে রিয়াল মাদ্রিদের পর দ্বিতীয় ক্লাব হিসেবে টানা একাধিক চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের এক বিরল ইতিহাস গড়ল পিএসজি।







