ইরানের বন্দরের দিকে যাত্রারত একটি বাণিজ্যিক জাহাজে দূরপাল্লার হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এই সফল অভিযানের কথা নিশ্চিত করে দাবি করেছে যে, ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে জাহাজটিকে সম্পূর্ণ বিকল করে দেওয়া হয়েছে। শনিবার (৩০ মে) মার্কিন বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, গাম্বিয়ার পতাকাবাহী ওই জাহাজটি যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত আন্তর্জাতিক অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে সরাসরি ইরানের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া সেন্টকমের একটি আনুষ্ঠানিক পোস্টে বলা হয়, ওমান উপসাগরে আন্তর্জাতিক জলসীমা অতিক্রম করার সময় ‘এমভি লিয়ান স্টার’ নামের এই বিশেষ বাণিজ্যিক জাহাজটিকে মার্কিন গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। ওই জলসীমায় অবস্থানকালেই জাহাজটির উদ্দেশে মার্কিন নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে ২০টিরও বেশি কঠোর সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছিল এবং এটি যে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অমান্য করছে, তা-ও স্পষ্টভাবে মনে করিয়ে দেওয়া হয়।
সেন্টকমের দাবি অনুযায়ী, মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে বারবার পাঠানো সেই সব সতর্কবার্তা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে জাহাজটি একগুঁয়েভাবে ইরানের দিকেই অগ্রসর হতে থাকে। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে একটি মার্কিন সামরিক বিমান থেকে জাহাজটির মূল ইঞ্জিন রুম লক্ষ্য করে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। ক্ষেপণাস্ত্রের প্রচণ্ড আঘাতে জাহাজটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে মাঝসাগরেই পড়ে থাকে এবং সেটি ইরানের দিকে নিজের নির্ধারিত যাত্রা আর অব্যাহত রাখতে পারেনি।
মার্কিন সামরিক বাহিনী তাদের বিবৃতিতে আরও জানিয়েছে, ইরানের ওপর আরোপিত চলমান এই বিশেষ অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে মার্কিন নৌবাহিনী এখন পর্যন্ত মোট পাঁচটি বাণিজ্যিক জাহাজকে একইভাবে অচল বা বিকল করে দিতে সক্ষম হয়েছে। এর পাশাপাশি একই অভিযোগে আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে আরও অন্তত ১১৬টি জাহাজকে তাদের পূর্বনির্ধারিত রুট বা পথ পরিবর্তন করতে বাধ্য করেছে মার্কিন কমান্ড।
তবে মার্কিন সামরিক বাহিনীর এই হাইপ্রোফাইল ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনাটি নিয়ে এখন পর্যন্ত ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা প্রতিবাদ পাওয়া যায়নি। এছাড়া বিকল হয়ে যাওয়া গাম্বিয়ার পতাকাবাহী ওই জাহাজটিতে আসলে কী ধরনের পণ্য বা মালামাল পরিবহন করা হচ্ছিল কিংবা ইরানের কোন বন্দরে এটির চূড়ান্ত গন্তব্য ছিল, সে বিষয়েও সেন্টকমের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।







