ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘কোচিং সেন্টার’ হিসেবে উল্লেখ করে দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহার করলেও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ-কে ঘিরে বিতর্ক থামছে না। ঈদুল আজহার ছুটির মধ্যেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বক্তব্য নিয়ে সমালোচনা, ট্রল এবং নানা প্রতিক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
সম্প্রতি একটি পডকাস্টে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে মন্তব্য করার পর শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এর প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী তাকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে। টিএসসির রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে আয়োজিত বিক্ষোভ ও মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, নিজ এলাকার জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েও তিনি বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন।
শিক্ষকদের সংগঠন ‘সাদা দল’ও প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে এক বিবৃতিতে বলে, দেশের উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, সংস্কৃতি ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক অবদান রয়েছে। এমন একটি প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়।
সমালোচনার মুখে ববি হাজ্জাজ তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিবৃতিতে বক্তব্য প্রত্যাহার করেন এবং দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন, তার বক্তব্য আংশিকভাবে প্রচার হওয়ায় ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, মন্তব্যটি ছিল তার ব্যক্তিগত মতামত; সরকারের কোনো আনুষ্ঠানিক অবস্থান নয়।
প্রতিমন্ত্রী জানান, তার উদ্দেশ্য ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও গবেষণানির্ভর ও আন্তর্জাতিক মানের প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও জাতি গঠনে অবদানের প্রতি তিনি গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন এবং সৃষ্ট বিভ্রান্তির জন্য বক্তব্য সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করে নেন।
তবে বক্তব্য প্রত্যাহারের পরও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্ক থামেনি। ফেসবুক, এক্স ও টিকটকে তার মন্তব্য নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। কেউ বক্তব্যকে দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে সমালোচনা করছেন, আবার সমর্থকদের দাবি এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণার অংশ।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান ডিজিটাল যুগে জনসম্মুখে দেওয়া কোনো বক্তব্য দ্রুত লাখো মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। ফলে বিতর্কিত মন্তব্যের প্রভাব অনেক সময় পরবর্তী ব্যাখ্যা বা প্রত্যাহারের মাধ্যমেও পুরোপুরি দূর করা সম্ভব হয় না।







