বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় নিজেদের জীবন উৎসর্গকারী বাংলাদেশের ৬ জন বীর শান্তিরক্ষীকে মরণোত্তর ‘দাগ হ্যামারশোল্ড মেডেল’ পদক প্রদান করছে জাতিসংঘ। আগামী ৫ জুন জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ‘আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ ও ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ অনুষ্ঠানে তাঁদের এই মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক সম্মাননা দেওয়া হবে। ওই বিশেষ অনুষ্ঠানে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস নিহত শান্তিরক্ষীদের পরিবারের প্রতিনিধিদের কাছে এই সম্মাননা পদক সরাসরি হস্তান্তর করবেন।
জাতিসংঘের আনুষ্ঠানিক এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এ বছর বিশ্বব্যাপী শান্তিরক্ষা মিশনে কর্তব্যরত অবস্থায় প্রাণ হারানো সর্বমোট ৬৮ জন সামরিক, পুলিশ ও বেসামরিক সদস্যকে মরণোত্তর ‘দাগ হ্যামারশোল্ড মেডেল’ প্রদান করা হচ্ছে। এই বীরদের মধ্যে ৫৯ জন গত বছর বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ মিশনে দায়িত্ব পালনকালে নিহত হন এবং সেই গৌরবের তালিকায় রয়েছেন বাংলাদেশের এই ৬ জন অকুতোভয় শান্তিরক্ষী।
আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সম্মাননা পেতে যাওয়া বাংলাদেশের এই বীর সন্তানেরা হলেন— প্রাইভেট মো. জাহাঙ্গীর আলম, প্রাইভেট মো. সবুজ মিয়া, কর্পোরাল মো. মাসুদ রানা, প্রাইভেট মো. মোমিনুল ইসলাম, প্রাইভেট শামীম রেজা এবং প্রাইভেট শান্ত মন্ডল। তাঁরা প্রত্যেকেই দূরপ্রবাসে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে গিয়ে নিজেদের জীবনের সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন।
সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, নিহত এই ৬ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী সুদান ও দক্ষিণ সুদানের সীমান্তবর্তী বিতর্কিত আব্বেই অঞ্চলে জাতিসংঘের অন্তর্বর্তীকালীন নিরাপত্তা বাহিনীতে (ইউএনআইএসএফএ) অত্যন্ত দক্ষতার সাথে কর্মরত ছিলেন। গত ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর সেখানে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে নিজেদের দায়িত্ব পালনকালে একটি আকস্মিক ও বর্বর ড্রোন হামলার শিকার হয়ে তারা নির্মমভাবে নিহত হন।
বিশ্বশান্তি রক্ষায় অসামান্য অবদান ও সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের অনন্য স্বীকৃতি হিসেবে জাতিসংঘ প্রতিবছর নিহত বীর শান্তিরক্ষীদের স্মরণে এই ‘দাগ হ্যামারশোল্ড মেডেল’ প্রদান করে থাকে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই সম্মাননা মূলত শান্তিরক্ষীদের অতুলনীয় বীরত্ব, উচ্চ পেশাদারিত্ব এবং বিশ্ব মানবতার প্রতি তাদের নিঃস্বার্থ অঙ্গীকারের এক পরম প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।
বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরেই জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ সেনা ও পুলিশ অবদানকারী দেশ হিসেবে সুনাম ধরে রেখেছে। বিশ্বের বিভিন্ন চরম সংঘাতপূর্ণ ও যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে দায়িত্ব পালন করে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা তাঁদের দক্ষতা, সাহসিকতা ও আত্মত্যাগের এক অনন্য ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছেন এবং এবারও সেই গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসে যুক্ত হলো দেশের আরও ছয় বীর সন্তানের নাম।







