লক্ষ্মীপুরে এক প্রবাসী ব্যক্তির স্ত্রীকে জোরপূর্বক ধর্ষণের অভিযোগে আল আমিন ছৈয়াল নামে এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার বিকেলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবু হানিফ বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। এর আগে গত রোববার (৩০ মে) রাতে চরম নির্যাতনের শিকার ওই ভুক্তভোগী গৃহবধূ নিজে বাদী হয়ে সদর মডেল থানায় এই মামলাটি দায়ের করেন।
অভিযুক্ত আল-আমিন ছৈয়াল লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চররমনী মোহন ইউনিয়নের উত্তর চররমনী গ্রামের আবু ছৈয়ালের ছেলে। তিনি ওই ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী গৃহবধূর স্বামী দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে থাকার সুযোগে আল-আমিন বিভিন্ন সময় ওই গৃহবধূকে উত্যক্ত করাসহ নানা কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল।
আসামির এমন কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় অভিযুক্ত আল-আমিন ক্ষিপ্ত হয়ে প্রায়ই গভীর রাতে ওই গৃহবধূর বসতবাড়ির টিনের চালে ইটপাটকেল ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করত। এই ঘটনার জেরে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে গত ৯ মাস আগে ওই গৃহবধূ শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে তাঁর বাবার বাড়িতে চলে যান। পরবর্তীতে গত পবিত্র রমজান মাসে তিনি আবার তাঁর শ্বশুরবাড়িতে ফিরে এলে আল-আমিন আবারও তাকে কুপ্রস্তাব দিতে শুরু করে, কিন্তু গৃহবধূ তাতে সাড় দেননি।
সবশেষ গত ২৮ মে দিবাগত রাতে ওই গৃহবধূ প্রাকৃতিক ডাকে সাড়া দিতে ঘর থেকে বাইরে বের হলে আগে থেকে অন্ধকারের মধ্যে ওত পেতে থাকা আল-আমিন পেছন থেকে তাঁর মুখ চেপে ধরে জোরপূর্বক পাশের একটি সুপারিবাগানে নিয়ে যায়। একপর্যায়ে ধারালো ছুরি গলায় ঠেকিয়ে হত্যার ভয় দেখিয়ে তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, এ ঘটনা কাউকে জানালে বা মামলা করলে ভিকটিমের একমাত্র সন্তানকে নির্মমভাবে হত্যার হুমকিও দেয় অভিযুক্ত যুবদল নেতা।
লোমহর্ষক এই ঘটনার পর ভুক্তভোগী গৃহবধূর ভাই তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা এই জঘন্য অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই, যেন অপরাধী আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি পায়।” এই বিষয়ে বক্তব্য জানতে যুবদল নেতা আল-আমিন ছৈয়ালের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবু হানিফ মামলার সার্বিক অগ্রগতি নিয়ে বলেন, “ধর্ষণের এই মামলাটি বর্তমানে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্তাধীন রয়েছে। তবে ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত আল-আমিন পলাতক থাকায় তাকে এখনও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। পুলিশ অপরাধীকে দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।”







