চলতি বছরের মে মাসে দেশে ৫৫ জন সংবাদমাধ্যমকর্মী শারীরিকভাবে হামলা, নির্যাতন, আইনি হয়রানি এবং জীবননাশসহ নানা হুমকির সম্মুখীন হয়েছেন। সোমবার বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জার্নালিস্টের (বিএজে) গবেষণা ও মনিটরিং সেলের সম্পাদক মাহমুদুল হাছান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই উদ্বেগজনক তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মে মাসে সারা দেশে অন্তত ২১টি ঘটনায় ৩৮ জন সংবাদকর্মী শারীরিক হামলা, নির্যাতন ও লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন এবং এসব হামলার ঘটনা ঘটিয়েছেন মাদক ব্যবসায়ী, কিশোর গ্যাং, রাজনৈতিক দলের উশৃঙ্খল নেতাকর্মী, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, ঠিকাদার এবং হাসপাতালকর্মীরা।
বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, পাবনা ও লালমনিরহাটে বিএনপি নেতাকর্মীদের হাতে ৩ জন, নরসিংদীতে যুবদল নেতার মারধরের শিকার হন ২ জন এবং বরিশালে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতার নেতৃত্বে এক সাংবাদিকের ওপর হামলা ও মোটরসাইকেল ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া বগুড়ায় যুবলীগ এবং কেরানীগঞ্জে বিএনপি এনসিপির রাজনৈতিক সংঘর্ষের সময় অন্তত ৩ জন সাংবাদিক লাঞ্ছিত ও হামলার শিকার হয়েছেন। অন্যদিকে চট্টগ্রামে আসামিকে গ্রেফতারের সময় পুলিশের ছোড়া গুলিতে দুই সাংবাদিক গুলিবিদ্ধ হন এবং রাজধানীর মিরপুরে উচ্ছেদ অভিযানের সংবাদ সংগ্রহকালে দুই সাংবাদিকের ওপর পুলিশ সদস্যরা হামলা চালায়।
দেশের বিভিন্ন স্থানে মাদক কারবারি ও সন্ত্রাসীদের হাতেও সাংবাদিকেরা আক্রান্ত হয়েছেন, যার মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জে মদ্যপ সন্ত্রাসীদের হামলায় ২ জন, মানিকগঞ্জে একজন এবং সাভারে ৪ জন সাংবাদিক আহত হন। এছাড়া ঝালকাঠিতে একদল দুর্বৃত্ত এক সাংবাদিককে কুপিয়ে জখম করে এবং চট্টগ্রামে আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে ৩ জন সাংবাদিক আইনজীবীদের হামলার শিকার হন। ময়মনসিংহে প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও তাঁর দলবল ৩ জন সাংবাদিককে মারধর করে, পটুয়াখালীর পীরগাছায় ২ শিক্ষকের হামলায় একজন এবং রাজধানীর আদ-দ্বীন হাসপাতালে নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের হামলার শিকার হন অন্তত ৫ জন সাংবাদিক।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, কালিহাতী ও ফরিদপুরে অনিয়মের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে ঠিকাদারদের হাতে ২ জন এবং মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাংয়ের হাতে একজন সাংবাদিক আক্রান্ত হন। এই সময়ে মোট দশজন সাংবাদিক আইনি হয়রানি ও গ্রেপ্তারের শিকার হয়েছেন, যার মধ্যে টেকনাফে মাদক ব্যবসায়ীদের প্ররোচনায় এক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে এবং ভোলার চরফ্যাশন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন ৭ জন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সাইবার আইনে মামলা দায়ের করেন। পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী খাগড়াছড়িতে একজন এবং র্যাব ময়মনসিংহে এক সাংবাদিককে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠিয়েছে এবং হুমকি ও পেশাগত কাজে বাধার সম্মুখীন হয়েছেন আরও ৮ জন সাংবাদিক।
বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জার্নালিস্ট (বিএজে) মনে করে, সাংবাদিকের আক্রান্ত হওয়ার এই দীর্ঘ তালিকা কেবল সংখ্যার হিসাব নয়, বরং এটি দেশে স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর এক বড় আঘাত। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং হামলাকারীদের দ্রুত বিচারের আওতায় না আনা হলে এই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। তাই সংগঠনটি সাংবাদিকদের ওপর চলমান এই ধারাবাহিক হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে এবং দোষীদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক বিচারের আওতায় আনার জোর দাবি জানায়।







