চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ পৌর এলাকায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে বেধড়ক পিটুনিতে আব্দুল মান্নান পাটওয়ারী (৬৫) নামে এক ব্যক্তি দুই দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর মারা গেছেন। মৃত্যুর খবর পেয়ে একই বাড়ির বাসিন্দা অভিযুক্ত সুমন পাটওয়ারী (২৮) বাড়ি থেকে পালিয়ে গেছে। তবে এই বর্বরোচিত ঘটনার পর এখন পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি।
নিহত মান্নান পাটওয়ারী দক্ষিণ দীঘলদী গ্রামের আকরাম আলী পাটওয়ারী বাড়ির বাসিন্দা এবং তিনি পেশায় এক সময় ফার্নিচারের কাজ করতেন। অভিযুক্ত সুমন পাটওয়ারী একই বাড়ির আরব আলী পাটওয়ারীর ছেলে এবং সে মতলব পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
घटनाর বিবরণ দিয়ে নিহতের স্বজনেরা জানান, মান্নান পাটওয়ারীর ছোট ভাই প্রতিবন্ধী হারুন পাটওয়ারী গত শনিবার বিকেলে বাড়ির সামনে নিজের জায়গায় গাছ লাগালে অভিযুক্ত সুমনের মা সেই গাছ উপড়ে ফেলে দেন। এই নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ঝগড়া শুরু হলে সুমন পাটওয়ারী দলবল নিয়ে এসে প্রথমে হারুন ও তাঁর স্ত্রীকে মারধর করে। পরে মাগরিবের নামাজ শেষে মান্নান পাটওয়ারী বাড়িতে ফিরলে সুমনসহ তার লোকজন তাঁকেও শরীরের বিভিন্ন স্থানে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর আহত করে।
আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে এবং পরবর্তীতে মান্নান পাটওয়ারীর অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার ভোরে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, সুমনের একটি নিজস্ব কিশোর গ্যাং বাহিনী রয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে এলাকায় দোকান দখল ও চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধমূলক কাজের অভিযোগ আছে।
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত সুমনের পুরো বাড়ি তালাবদ্ধ রয়েছে এবং পরিবারের কেউ এই বিষয়ে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হয়নি। অন্যদিকে এলাকাবাসী ও নিহতের পরিবার এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সুমন ও তার কিশোর গ্যাং বাহিনীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
মতলব দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান মানিক জানান, দুই পক্ষের মধ্যে জমি নিয়ে আগে থেকেই বিরোধ চলে আসছিল এবং ঘটনার দিন পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছিল। গুরুতর আহত মান্নান পাটওয়ারী ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই ঘটনায় টাকায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করা হলে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।







