সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনমুন নাহার আশাকে ‘আপা’ বলে সম্বোধন করায় বনফুল অ্যান্ড কোম্পানির তাজপুর শাখার এক কর্মচারীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করার অভিযোগ উঠেছে। গত ২৯ মে ঈদের পরদিন বিকেলে নিজের মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে সাধারণ ক্রেতার বেশে তাজপুর বনফুল শাখায় যান ইউএনও, যেখানে এই ঘটনার সূত্রপাত হয়।
দোকানের কর্মচারী আব্দুল মান্নানের কাছে চকোলেট আইসক্রিম ও মিষ্টির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ইউএনওকে ‘আপা’ বলে সম্বোধন করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ইউএনও নিজেকে ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয় দেন এবং বাসি মিষ্টি বিক্রির অভিযোগ এনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার ভয় দেখান। পরবর্তীতে ম্যানেজার সুহেল বড়ুয়া এসে ক্ষমা চাইলেও আব্দুল মান্নানকে জেল ও জরিমানার ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক একটি কাগজে স্বাক্ষর নেওয়া হয়।
গত ১ জুন হার্টের রোগী আব্দুল মান্নান জরিমানার পরিমাণ কমানোর অনুরোধ জানাতে ইউএনও কার্যালয়ে যান। সেখানে কোনো সাড়া না পেয়ে তিনি সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনার শরণাপন্ন হন। ২৬ বছর ধরে চাকরি করা আব্দুল মান্নান জানান, এই ঘটনার পর তাকে প্রথমে চাকরিচ্যুত করা হলেও পরবর্তীতে বিএনপির নেতাকর্মীদের হস্তক্ষেপে চাকরি রক্ষা পায় এবং তাকে সিলেট কারখানায় বদলি করা হয়, তবে জরিমানার অর্থ তার বেতন থেকে কেটে নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে বনফুল তাজপুর শাখার ব্যবস্থাপক সুহেল বড়ুয়া বলেন, কর্মচারী বয়স্ক ও নিরক্ষর হওয়ায় ক্রেতার বেশে আসা ইউএনওকে চিনতে পারেননি এবং এ কারণেই ইউএনও ক্ষুব্ধ হয়ে জরিমানা করেন। অন্যদিকে বালাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান মন্তব্য করেন, শুধু ‘আপা’ ডাকার কারণে জরিমানা করা সম্ভব নয়, হয়তো অন্য কোনো অনিয়মের কারণে এটি করা হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য জানতে ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনমুন নাহার আশার সরকারি নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।







