রাজধানীর মগবাজারে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্তে চিকিৎসাধীন রোগী ও তাদের স্বজনরা চরম অনিশ্চয়তা ও ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন। বিশেষ করে আইসিইউ, এনআইসিইউ, সিসিইউ ও এইচডিইউতে চিকিৎসাধীন রোগীদের স্থানান্তর নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
শুক্রবার হাসপাতাল পরিদর্শনে দেখা যায়, লাইসেন্স বাতিলের ঘোষণার পর অনেক রোগী হাসপাতাল ছাড়তে শুরু করেছেন। তবে সংকটাপন্ন রোগীদের অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এনআইসিইউতে ভর্তি নবজাতকদের অভিভাবকরা হাসপাতালের সামনে বিক্ষোভ করে সরকারের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানান।
রোগীদের স্বজনদের অভিযোগ, তুলনামূলক কম খরচে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছিল আদ্-দ্বীন হাসপাতাল। হঠাৎ লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্তে তারা বিপাকে পড়েছেন। অনেকের মতে, চিকিৎসাসেবার স্বার্থে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, বর্তমানে ২৪৩ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। তাদের মধ্যে এনআইসিইউতে ৫০ নবজাতক, আইসিইউতে ১৩ জন এবং সিসিইউতে ৬ জন চিকিৎসাধীন। নতুন রোগী ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
এদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুনর্বিবেচনার আবেদন করা হবে। এক সংবাদ সম্মেলনে হাসপাতালের পরিচালক মো. তারিকুল ইসলাম মুকুল বলেন, রোগীদের স্বার্থ রক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এবং সরকারের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আশাবাদ রয়েছে।
তিনি জানান, যে ওয়ার্ডে ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়েছিল সেটি ইতোমধ্যে বন্ধ রাখা হয়েছে। আগামী তিন মাসের মধ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ সম্পন্ন করারও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
উল্লেখ্য, গত ২৭ মে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়। ঘটনার তদন্ত শেষে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত জানায় এবং রোগী স্থানান্তরের জন্য ২৪ ঘণ্টা সময় নির্ধারণ করে।







