বগুড়ায় নবঘোষিত চারটি ইউনিয়নের নামকরণকে ঘিরে বিতর্ক শুরু হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, স্থানীয়দের মতামতের ভিত্তিতে গণশুনানির মাধ্যমে নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট এলাকায় গিয়ে অনেক বাসিন্দা এমন কোনো গণশুনানির কথা জানেন না বলে জানিয়েছেন।
শিবগঞ্জ উপজেলার নতুন ইউনিয়নের নাম রাখা হয়েছে ‘মীরবাড়ী’। পাশাপাশি মোকামতলা উপজেলার তিনটি নতুন ইউনিয়নের নাম দেওয়া হয়েছে ‘সীমান্ত’, ‘দিগন্ত’ ও ‘স্বর্ণগ্রাম’।
অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য মীর শাহে আলমের পারিবারিক পরিচয়ের সঙ্গে মিল রেখেই এসব নামকরণ করা হয়েছে। ‘মীরবাড়ী’ তাঁর পৈতৃক বাড়ির নাম, আর ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ তাঁর দুই ছেলের নামের সঙ্গে মিলে যায়।
বিষয়টি জাতীয় সংসদেও আলোচনার জন্ম দেয়। সংসদে এ নিয়ে প্রশ্ন উঠলে প্রতিমন্ত্রী দাবি করেন, গণশুনানির ভিত্তিতেই নামগুলো নির্ধারণ করা হয়েছে এবং নামের মিল কেবল কাকতালীয়।
তবে প্রশাসনের নথিতে উল্লেখিত গণশুনানির স্থানগুলোতে গিয়ে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। স্থানীয় অনেক বাসিন্দা জানিয়েছেন, ইউনিয়নের নামকরণ নিয়ে কোনো উন্মুক্ত গণশুনানির কথা তারা শোনেননি।
ভরিয়া গ্রামের বাসিন্দারা বলেন, নতুন ইউনিয়ন গঠনের আগে কোনো সভা বা মতামত গ্রহণের আয়োজন চোখে পড়েনি। গণশুনানি হলে এলাকার মানুষ অবশ্যই জানতে পারতেন বলে তাদের দাবি।
সৈয়দপুর ইউনিয়নের হাবিবপুর এলাকাতেও একই ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, ইউনিয়নের নামকরণ নিয়ে কোনো গণশুনানি হয়েছে বলে তারা জানেন না।
প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ ইউনিয়নের নাম প্রস্তাব করেছেন স্থানীয় দুই যুবদল নেতা। তারা দাবি করেছেন, ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনায় এসব নাম প্রস্তাব করা হয়েছিল।
অন্যদিকে ‘মীরবাড়ী’ ইউনিয়নের প্রস্তাবক শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, মীর পরিবার এলাকার উন্নয়নে দীর্ঘদিন ভূমিকা রাখায় তিনি এ নামের প্রস্তাব করেছিলেন।
‘স্বর্ণগ্রাম’ ইউনিয়নের নাম নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সমালোচকদের দাবি, এলাকায় ‘স্বর্ণগ্রাম’ নামে কোনো গ্রাম বা মৌজা নেই। স্থানীয়দের একটি অংশ নতুন ইউনিয়নের নাম ‘দাড়িদহ’ রাখার দাবি জানিয়েছিল।
স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো ব্যক্তির নাম বা পারিবারিক পরিচয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নাম সরকারি প্রশাসনিক ইউনিটে ব্যবহার করা আইনগত ও নৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। এ নিয়ে স্বচ্ছ তদন্ত ও ব্যাখ্যার দাবি উঠেছে।







