বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)—এই তিন রাজনৈতিক শক্তির মধ্যে চলমান মতপার্থক্য ও বিরোধকে কেন্দ্র করে দেশে একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির সুযোগ খুঁজছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগ।
সূত্রমতে, দলটি মনে করছে, এই তিন দলের মধ্যে সংঘাত বা তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হলে সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তারা আবারও দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করতে পারবে।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ক্ষমতাকেন্দ্রিক ইস্যু, আধিপত্য বিস্তার এবং বিভিন্ন নীতিগত প্রশ্নে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির মধ্যে এক ধরনের দূরত্ব ও বিরোধ দেখা যাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই বিভাজনকে কাজে লাগিয়ে রাজনৈতিক মাঠে পুনরায় অবস্থান তৈরির কৌশল নিচ্ছে আওয়ামী লীগ, যারা গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে সাংগঠনিক ও রাজনৈতিকভাবে চাপে রয়েছে।
সূত্র আরও জানায়, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই বিভিন্ন ইস্যুতে উত্তেজনা সৃষ্টি করে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করেছিল দলটি, যদিও তা সফল হয়নি। পরবর্তীতে নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে তাদের প্রত্যাবর্তনের পথ আরও সংকুচিত হয়েছে। ফলে এখন তারা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের ব্যর্থতা ও বিভাজনের অপেক্ষায় রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আইনুল ইসলাম বলেন, রাজনৈতিক শূন্যতা বা বিভাজন তৈরি হলে তৃতীয় কোনো শক্তি সুযোগ নিতে পারে। তার মতে, বিভিন্ন জায়গায় আওয়ামী লীগের ছোট ছোট কর্মসূচি দেখা যাচ্ছে, যা রাজনৈতিক অস্থিরতার ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচনের পর সংবিধান সংস্কার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, এবং বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতে দলগুলোর মধ্যে মতানৈক্য আরও বেড়েছে। সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ বিএনপি, দ্বিতীয় বৃহত্তম জামায়াত এবং তরুণদের প্রতিনিধিত্বকারী এনসিপির মধ্যে বিভিন্ন ইস্যুতে সমন্বয়ের ঘাটতি রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
এদিকে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কিছু নেতাকর্মী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা মিছিল ও বিচ্ছিন্ন ঘটনাও ঘটেছে, যা রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে।
তবে এসব পরিস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর বক্তব্যে পারস্পরিক দোষারোপও দেখা যাচ্ছে। বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির নেতারা একে অপরের ভূমিকা ও অবস্থান নিয়ে সমালোচনা করছেন এবং বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতার জন্য ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা দিচ্ছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, বড় রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক আস্থাহীনতা ও বিভাজন অব্যাহত থাকলে তা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে।







