বগুড়ার শিবগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী ‘শিবগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়’-এর নাম পরিবর্তন করে ‘শিবগঞ্জ মীর শাহে আলম পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়’ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের একটি চিঠির মাধ্যমে নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট চিঠির স্মারক নম্বর ৩৭.০০.০০০০.০০০.০৭২.৪৪.০০০৩.২৫.৯৮।
এ নিয়ে এলাকায় নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সমালোচকদের দাবি, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের নামে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনার নামকরণের ধারাবাহিকতায় এটি নতুন সংযোজন।
তথ্য অনুযায়ী, ২০০১ সালে বিএনপি সরকারের আমলে নিজ এলাকায় ‘বেতগাড়ী মীর শাহে আলম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়’ প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। পরে ২০০৩ সালে প্রতিষ্ঠা করেন ‘বেতগাড়ী মীর শাহে আলম কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ’।
এ প্রতিষ্ঠানে তার স্ত্রীকে স্মরণ করে ‘মীর লাবণী আক্তার’ নামে একটি ভবনও নির্মাণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রতিমন্ত্রী হওয়ার পর নতুন উপজেলা সদরে ‘মোকামতলা মীর শাহে আলম-ছাত্তার তালুকদার মহাবিদ্যালয়’ প্রতিষ্ঠা করা হয়। ওই প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ হিসেবে তার ব্যক্তিগত সহকারী আতিকুর রহমানকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া তার নামে ‘বেতগাড়ী মীর শাহে আলম কৃষি ও মৎস্য প্রযুক্তি ইনস্টিটিউট’ নামের আরও একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও পরিবারের সদস্যদের নাম ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। তার দুই ছেলের নামে ‘মীর সীমান্ত-দিগন্ত ফিলিং স্টেশন’ এবং স্ত্রী ও কন্যার নামে ‘মীর লাবণী-নুসাত ফিলিং স্টেশন’ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
এদিকে ‘মীর সীমান্ত ইঞ্জিনিয়ারিং’ নামে তার ছেলের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানও বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কাজ পাচ্ছে বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে।
এছাড়া ‘মীরবাড়ী’, ‘সীমান্ত’, ‘দিগন্ত’ ও ‘স্বর্ণগ্রাম’ নামে চারটি ইউনিয়নের নামকরণ নিয়েও অতীতে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে।
সব মিলিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন স্থাপনায় নাম ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে এলাকায় নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।







