বঙ্গভবনের সঙ্গে সরকারের সম্পর্ক কি শীতল?
রাজধানীর রাজনৈতিক অঙ্গনে সম্প্রতি একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—বঙ্গভবনের সঙ্গে বর্তমান সরকারের সম্পর্ক কি আগের মতো উষ্ণ আছে, নাকি তাতে শীতলতার ছাপ পড়েছে? বিভিন্ন সাম্প্রতিক ঘটনা ও আনুষ্ঠানিকতায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং সরকারের মধ্যে দূরত্বের ইঙ্গিত দেখছেন অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক।
সরকার গঠনের শুরুতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্পর্ক ছিল দৃশ্যত আন্তরিক। ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার জামাতে তাদের একসঙ্গে অংশগ্রহণ, সংসদের উদ্বোধনী অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের প্রতি সরকারি দলের সমর্থন এবং সরকার গঠনের পর সৌজন্য সাক্ষাৎ—সবই ছিল সুসম্পর্কের বার্তা।
তবে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে রাষ্ট্রপতির সাম্প্রতিক লন্ডন সফরের পর। সরকারি সূত্রগুলো বলছে, সফরকালে রাষ্ট্রপতির কিছু কর্মকাণ্ড সরকারের নীতিনির্ধারণী মহলে অস্বস্তির কারণ হয়ে ওঠে। এরপর থেকেই দুই পক্ষের সম্পর্ক আগের তুলনায় শিথিল হয়েছে বলে আলোচনা শুরু হয়।
বিশেষ করে ১১ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশনের দিনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সংসদ ভবনে উপস্থিত থাকলেও সরকার ও সরকারি দলের শীর্ষ নেতাদের কেউ তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাননি। সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকেও তাকে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানানো হয়নি। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি ছিল সম্পর্কের টানাপোড়েনের একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত।
তবে সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা এ ব্যাখ্যার সঙ্গে একমত নন। বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সরকারের সম্পর্ক পুরোপুরি সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যেই পরিচালিত হচ্ছে। তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনও একই ধরনের বক্তব্য দিয়ে বলেন, বঙ্গভবনের সঙ্গে সরকারের কার্যকর ও সাংবিধানিক সম্পর্ক অব্যাহত রয়েছে।
অন্যদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, রাষ্ট্রপতি আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দায়িত্ব পেলেও বর্তমান সরকার জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হওয়ায় তাদের নিজস্ব রাজনৈতিক কৌশল থাকাটাই স্বাভাবিক। ফলে সম্পর্কের উষ্ণতা কমে এলেও সাংবিধানিক কারণে উভয় পক্ষকে পারস্পরিক যোগাযোগ বজায় রাখতে হবে।
এদিকে নির্বাচনের পর নিজ পদ ছাড়ার ইচ্ছার কথাও প্রকাশ করেছিলেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, সুযোগ পেলে সম্মানজনকভাবে বঙ্গভবন থেকে বিদায় নিতে চান। তবে সংবিধান অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করে যাবেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার ও বঙ্গভবনের মধ্যে সম্পর্ক পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন নয়; তবে আগের উষ্ণতা কমে গিয়ে তা এখন মূলত সাংবিধানিক ও আনুষ্ঠানিক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ রয়েছে।







