বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত এক মানব কঙ্কালের পরিচয় শনাক্তে ডিএনএ পরীক্ষার উদ্যোগ নিয়েছে পুলিশ। এ লক্ষ্যে কঙ্কাল থেকে সংগ্রহ করা নমুনা ইতোমধ্যে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ফরেনসিক ও ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতেই কঙ্কালটির পরিচয়, মৃত্যুর সময়কাল এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে।
বুধবার (২৫ জুন) বিষয়টি নিশ্চিত করে নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোজাম্মেল হক বলেন, ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর দেশের সব থানায় বেতার বার্তা পাঠানো হবে। কোথাও কোনো নিখোঁজ ব্যক্তির তথ্যের সঙ্গে মিল পাওয়া গেলে তা যাচাই-বাছাই করা হবে। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর পরবর্তী আইনি কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের প্রায় ৩৫ কিলোমিটার উত্তরে ২৮০ নম্বর আলীক্ষ্যং মৌজার হাতির ডেরা এলাকায় মঙ্গলবার দুপুরে একটি মানব কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়। ইউপি সদস্য নুর মোহাম্মদ পুতনের একাশি বাগানসংলগ্ন জঙ্গল এলাকায় স্থানীয়রা প্রথমে একটি মাথার খুলি ও কিছু হাড় দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। পরে আলীক্ষ্যং পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে কঙ্কালটি উদ্ধার করেন।
ঘটনাস্থল থেকে একটি মাথার খুলি, পায়ের হাড়ের অংশ, একটি ব্যাগ, একটি লুঙ্গি, কালো চাদর, টুথব্রাশ, প্লাস্টিকের বোতল, কিছু ওষুধ এবং দুই টুকরো জিআই তার উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে পরিচয় শনাক্তে সহায়ক কোনো জাতীয় পরিচয়পত্র, মোবাইল ফোন বা অন্য কোনো নথিপত্র পাওয়া যায়নি।
তদন্তসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, উদ্ধার হওয়া ব্যাগে লুঙ্গি ও ব্যক্তিগত ব্যবহার্য সামগ্রী থাকায় প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে কঙ্কালটি একজন পুরুষের। একই সঙ্গে উদ্ধার হওয়া কিছু আলামত ও ব্যাগের ধরন বিবেচনায় এটি কোনো রোহিঙ্গা শরণার্থীরও হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে এখনই নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।
তিনি আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন থানায় নিখোঁজ ব্যক্তিদের তালিকার সঙ্গে কঙ্কালটির সম্ভাব্য মিল খোঁজা হবে। প্রয়োজনে রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পগুলোর নিখোঁজ সংক্রান্ত তথ্যও যাচাই করা হবে।
দীর্ঘদিন পর দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় মানব কঙ্কাল উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের ধারণা, অজ্ঞাত ওই ব্যক্তিকে অপহরণের পর নির্জন স্থানে নিয়ে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। কঙ্কালের অবস্থা দেখে তারা মনে করছেন, মৃত্যুর ঘটনাটি অন্তত ছয় মাস বা তারও আগে ঘটেছে।
বাইশারী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ (আইসি) মো. মনজুর আহসান বলেন, খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে মানব কঙ্কালটি উদ্ধার করা হয়েছে। কঙ্কালটি ফরেনসিক পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। পরিচয় শনাক্ত এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
এ বিষয়ে ওসি মো. মোজাম্মেল হক বলেন, উদ্ধার হওয়া আলামতগুলো গুরুত্বের সঙ্গে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। ফরেনসিক রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। তদন্তের স্বার্থে সম্ভাব্য সব দিক বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কঙ্কালটির পরিচয়, মৃত্যুর সময়কাল এবং মৃত্যুর কারণ নির্ধারণে বৈজ্ঞানিক তদন্তকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কোনো অপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকলে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। তবে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া এ মুহূর্তে কোনো বিষয়ে চূড়ান্ত মন্তব্য করা সমীচীন নয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।







