ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক মূলত যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক পরাজয়ের ঘোষণা বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের শীর্ষ পরমাণু আলোচক ও দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। বুধবার (২৪ জুন) ইরানি টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারিত আজারবাইজানে অনুষ্ঠিত এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশ নিয়ে তিনি এই চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে স্পিকার গালিবাফ জোর দিয়ে বলেন, ইসলামাবাদ সমঝোতা কোনো আন্তর্জাতিক চাপ বা জবরদস্তির ফল নয়; বরং এটি দীর্ঘদিনের সাহসী ইরানি জাতির অকুতোভয় প্রতিরোধ ও সামরিক শক্তির চূড়ান্ত ফসল। ঠিক এই কারণেই এই দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারকটি বিশ্বমঞ্চে আমেরিকার একচেটিয়া আধিপত্য ও পরাজয়ের দলিলে পরিণত হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক ও সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা শুধুমাত্র এই অঞ্চলের দেশগুলোর দ্বারাই নির্ধারিত হওয়া উচিত। যেকোনো ধরনের বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপ প্রত্যাখ্যান করে তিনি সামগ্রিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানোর জোর আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে পাকিস্তানের প্রত্যক্ষ মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়, যা দুই পক্ষের মধ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রাতিষ্ঠানিক অবসান ঘটায়। এই সমঝোতার ভিত্তিতে একটি দীর্ঘমেয়াদি ও চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে ৬০ দিনের একটি বিশেষ আলোচনার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
এরই অংশ হিসেবে চলতি সপ্তাহে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীরা জানিয়েছেন, উভয় পক্ষই একটি চূড়ান্ত চুক্তির খসড়া কাঠামো নিয়ে নীতিগতভাবে একমত হতে পেরেছে। আলোচনা শেষে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স দাবি করেন, ইরান আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পরিদর্শকদের পুনরায় তাদের দেশে ফেরার অনুমতি দিতে সম্মত হয়েছে, যা আমেরিকার জন্য একটি বড় কৌশলগত মাইলফলক।
তবে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের এই দাবিকে সম্পূর্ণ নাকচ করে দিয়েছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমাইল বাঘেই এক বিবৃতিতে স্পষ্ট জানিয়েছেন, সুইজারল্যান্ডে আইএইএ মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসির সঙ্গে ইরানের প্রতিনিধিদের কোনো আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক বৈঠক হয়নি। এমনকি সম্প্রতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের পরিদর্শনের কোনো পরিকল্পনা বা অনুমতি দেওয়ার প্রশ্নই আসে না। এদিকে পুরো প্রক্রিয়ার প্রধান মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান জানিয়েছে, তাদের তত্ত্বাবধানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান এই কারিগরি পর্যায়ের স্পর্শকাতর আলোচনা আগামী সপ্তাহে পুনরায় শুরু হতে পারে।







