জাতীয় সংসদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী ইশতেহার নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের বক্তব্যের পর তা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। জামায়াতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, সংসদে দেওয়া বক্তব্যে তাদের নির্বাচনী ইশতেহার সম্পর্কে ভুল তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে।
সংসদে বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, জামায়াতের ৯৩ পৃষ্ঠার নির্বাচনী ইশতেহারে ইসলামী রাষ্ট্র, ইসলামী সমাজব্যবস্থা, ইসলামী অর্থনীতি কিংবা ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার কোনো অঙ্গীকার নেই। তিনি প্রশ্ন তোলেন, মুখে ইসলাম প্রতিষ্ঠার কথা বলা হলেও ইশতেহারে এসব বিষয় উল্লেখ না থাকলে দলটি কীভাবে নিজেদের ইসলামী দল হিসেবে উপস্থাপন করে।
তবে এ বক্তব্যের পর জামায়াতের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা দলটির প্রকাশিত নির্বাচনী ইশতেহারের কয়েকটি অংশ সামনে আনেন। তাদের দাবি, ইশতেহারের ‘আইন ও বিচারব্যবস্থা’ অধ্যায়ের ৫ নম্বর অনুচ্ছেদে মুসলিমদের জন্য ইসলামী শরিয়াহর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ স্বতন্ত্র মুসলিম পার্সোনাল ল’ প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণের কথা উল্লেখ রয়েছে। একই সঙ্গে পার্সোনাল ল’–সংক্রান্ত বিষয়ে হাইকোর্টে বিশেষ বেঞ্চ গঠনের প্রস্তাবও রয়েছে।
এছাড়া একই অধ্যায়ের ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদে ইসলামী অর্থনীতি, তাকাফুল (ইসলামী বীমা) এবং ইসলামী ব্যাংকিং খাতের জন্য প্রয়োজনীয় নতুন আইন প্রণয়ন ও বিদ্যমান আইন সংস্কারের অঙ্গীকারও উল্লেখ করা হয়েছে বলে জামায়াত দাবি করেছে।
জামায়াতের নেতারা বলছেন, ইশতেহারে এসব বিষয় স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত থাকার পরও সংসদে এগুলো নেই বলে মন্তব্য করায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য বাস্তব তথ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তারা এ বক্তব্যকে বিভ্রান্তিকর বলে আখ্যায়িত করেছেন।
অন্যদিকে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বা সরকারের পক্ষ থেকে জামায়াতের এই দাবির বিষয়ে এখন পর্যন্ত আলাদা কোনো ব্যাখ্যা বা প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি। ফলে বিষয়টি রাজনৈতিক বিতর্কের অংশ হিসেবে আলোচনায় রয়েছে।







