আফগানিস্তানের ভূখণ্ডে পাকিস্তানের সাম্প্রতিক বিমান হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ভারত। নয়াদিল্লি এই সামরিক পদক্ষেপকে ‘বেপরোয়া’ এবং ‘নির্লজ্জ আগ্রাসন’ বলে তীব্র ভাষায় সমালোচনা করেছে। একই সঙ্গে ভারত দাবি করেছে, পাকিস্তানের এই ধরনের একতরফা হামলা আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য বড় ধরনের হুমকি।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, গত রোববার দিবাগত রাত থেকে সোমবারের মধ্যে আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় তিনটি প্রদেশে এই বিমান ও স্থল অভিযান চালায় পাকিস্তানি বাহিনী। কাবুলের তালেবান সরকারের দাবি, এই হামলায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ৩৬ জন সাধারণ বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ১৬৩ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে, পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার জানিয়েছেন, সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর আস্তানা লক্ষ্য করে নিখুঁতভাবে চালানো এই অভিযানে অন্তত ২৯ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে। পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের দাবি, নিহত এসব জঙ্গি সম্প্রতি করাচিতে আধাসামরিক বাহিনী ‘সিন্ধু রেঞ্জার্স’-এর সদর দপ্তরে হওয়া আত্মঘাতী ও প্রাণঘাতী হামলার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিল।
এই হামলার পর এক বিবৃতিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করে বলেছে, সন্ত্রাসীদের আস্তানা ধ্বংসের অজুহাত দেওয়া হলেও এই হামলায় অসংখ্য সাধারণ আফগান নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। বিবৃতিতে দাবি করা হয়, “পাকিস্তানের এই নির্লজ্জ আগ্রাসন আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্বের ওপর চরম আঘাত। এটি মূলত নিজেদের অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতা আড়াল করতে সীমানার বাইরে সহিংসতা ছড়িয়ে দেওয়ার একটি ব্যর্থ চেষ্টা।”
নয়াদিল্লি এই ঘটনায় স্বজন হারানো আফগান পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছে এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছে। পাশাপাশি আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি ভারতের অটল সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। যদিও আফগান কর্তৃপক্ষ বরাবরই তাদের ভূখণ্ডে পাকিস্তানি সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালে কাবুলের ক্ষমতা তালেবানের হাতে যাওয়ার পর থেকেই প্রতিবেশী এই দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক চরম উত্তেজনাপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দুই দেশের মধ্যে ‘উন্মুক্ত যুদ্ধ’ ঘোষণার মতো পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পর, কয়েক সপ্তাহের আপেক্ষিক শান্ত পরিবেশ শেষে জুনের এই নতুন হামলা সীমান্ত সংঘাতকে আবারও বিপজ্জনক মাত্রায় উসকে দিল।







