আজ ১ জুলাই। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক তাৎপর্যপূর্ণ দিন। ২০২৪ সালের এই দিনে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হয়েছিল ছাত্র-জনতার আন্দোলন, যা পরবর্তীতে গণঅভ্যুত্থানে রূপ নিয়ে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। সেই জুলাই বিপ্লবের তৃতীয় বর্ষপূর্তি আজ।
দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে শুরু হওয়া এ আন্দোলনের সূচনা হয় সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে। শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি দমন করতে গিয়ে সরকার কঠোর অবস্থান নিলে আন্দোলন ক্রমেই সহিংস রূপ নেয়। ১৫ জুলাই থেকে সংঘর্ষ এবং ১৬ জুলাই থেকে প্রাণহানির ঘটনা শুরু হয়।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের দমন-পীড়নে আন্দোলন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়।
এর চূড়ান্ত পরিণতি ঘটে ৫ আগস্ট, যখন টানা ১৬ বছর ক্ষমতায় থাকা শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যেতে বাধ্য হন। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে এক নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা হয়।
আন্দোলনের পটভূমি
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সূত্র খুঁজতে হলে ফিরে যেতে হয় ২০১৮ সালে। সে সময় সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে সরকার প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে কোটা বাতিলের ঘোষণা দেয়। তবে ২০২৪ সালের ৫ জুন হাইকোর্ট সেই পরিপত্র অবৈধ ঘোষণা করলে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটাসহ মোট ৫৬ শতাংশ কোটা পুনর্বহাল হয়।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সূত্র খুঁজতে হলে ফিরে যেতে হয় ২০১৮ সালে। সে সময় সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে সরকার প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে কোটা বাতিলের ঘোষণা দেয়। তবে ২০২৪ সালের ৫ জুন হাইকোর্ট সেই পরিপত্র অবৈধ ঘোষণা করলে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটাসহ মোট ৫৬ শতাংশ কোটা পুনর্বহাল হয়।
এর প্রতিবাদে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আবারও আন্দোলনে নামেন। তারা কোটা বাতিলের নতুন নির্বাহী আদেশের দাবি জানান এবং সরকারের কাছে নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেন।
১ জুলাইয়ের কর্মসূচি
২০২৪ সালের ১ জুলাই ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ নামে নতুন প্ল্যাটফর্মের ব্যানারে দেশব্যাপী কর্মসূচি শুরু হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিক্ষোভ, সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
২০২৪ সালের ১ জুলাই ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ নামে নতুন প্ল্যাটফর্মের ব্যানারে দেশব্যাপী কর্মসূচি শুরু হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিক্ষোভ, সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
আন্দোলনকারীরা ৪ জুলাই পর্যন্ত ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেন এবং ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন শুরু করেন।
একই দিনে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও প্রতীকী অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন।
আন্দোলনের দাবি
শিক্ষার্থীদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে ছিল—
বৈষম্যমূলক কোটা ব্যবস্থা বাতিল;
২০১৮ সালের কোটা বাতিলের পরিপত্র বহাল রাখা;
শিক্ষার্থীদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে ছিল—
বৈষম্যমূলক কোটা ব্যবস্থা বাতিল;
২০১৮ সালের কোটা বাতিলের পরিপত্র বহাল রাখা;
ভবিষ্যতে কোটাব্যবস্থার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে কমিশন গঠন;
সরকারি চাকরির সব গ্রেডে অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাতিল করা।
সরকারি চাকরির সব গ্রেডে অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাতিল করা।
ইতিহাসের সেই ১ জুলাই আজ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে স্মরণ করা হচ্ছে। ছাত্র-জনতার অংশগ্রহণে শুরু হওয়া এ আন্দোলন শেষ পর্যন্ত দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় বড় পরিবর্তন এনে দেয় এবং ‘জুলাই বিপ্লব’ নামে ইতিহাসে স্থান করে নেয়।







