বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের পরিচালক মাওলানা আবদুল হালিম বলেছেন, গণভোটে জনগণ যে রায় দিয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নই এখন জাতির প্রধান প্রত্যাশা।
জনগণের রায়ের প্রতি সম্মান দেখিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন এবং জাতীয় অঙ্গীকার পূরণে সরকারকে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
বুধবার (১ জুলাই) বিকেলে রংপুর মহানগর ও জেলা জামায়াত কার্যালয়ে আয়োজিত রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চল বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জাতীয় স্বার্থ, জনগণের প্রয়োজন এবং দেশের কল্যাণে জাতীয় সংসদে গঠনমূলক বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করছে। পাশাপাশি জনগণের ন্যায্য অধিকার, দেশের স্বার্থ ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন-সংগ্রামও অব্যাহত রয়েছে।
মাওলানা আবদুল হালিম বলেন, আবু সাঈদের কবর জিয়ারত শেষে রংপুরের জনসভায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু সরকার গঠনের পরও জুলাই সনদের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে জনগণের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে।
তিনি আরও বলেন, ১১ দলীয় ঐক্য জনগণের দেওয়া গণরায় বাস্তবায়নের দাবিতে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, এখন প্রয়োজন বাস্তবায়নের দৃশ্যমান উদ্যোগ।
উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন তিস্তা মহাপরিকল্পনার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, মানুষ আর আশ্বাস শুনতে চায় না; তারা প্রকল্প বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট সময়সূচি ও বাজেটে এর প্রতিফলন দেখতে চায়। একই সঙ্গে সীমান্তে পুশ-ইন ও হত্যা বন্ধ, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করাও জরুরি জাতীয় দাবি।
তিনি জানান, আগামী ১১ জুলাই ঐতিহাসিক রংপুর জেলা স্কুল মাঠে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। ওই সমাবেশ থেকে চার দফা দাবি উত্থাপন করা হবে। দাবিগুলো হলো—
১. গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন।
২. তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ।
৩. সীমান্তে পুশ-ইন ও সীমান্ত হত্যা বন্ধ করা।
৪. দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ এবং কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করে জনদুর্ভোগ লাঘব করা।
সভা সঞ্চালনা করেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য ও রংপুর মহানগর জামায়াতের আমির এটিএম আজম খান।
সভায় আরও বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য ও রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের সহকারী পরিচালক মাওলানা মমতাজ উদ্দিন এবং টিমের সদস্য ও রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন রংপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও রংপুর জেলা আমির অধ্যাপক গোলাম রব্বানী, নীলফামারী-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা আবদুস সাত্তার, গাইবান্ধা-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবদুল করিমসহ রংপুর বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
উল্লেখ্য, আগামী ১১ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য রংপুর বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমেদ, জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেনসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ।







