নিখুঁতভাবে রোগ নির্ণয় এবং থাইরয়েড ও ক্যানসারসহ দুরারোগ্য ব্যাধির চিকিৎসা দিতে প্রতিষ্ঠিত খুলনা পরমাণু চিকিৎসাকেন্দ্র (ইনমাস) এখন নিজেই রোগাক্রান্ত। আধুনিকায়ন ও সেবার পরিধি বাড়লেও চরম জনবল সংকট, অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির কারণে দূর-দূরান্ত থেকে আসা সাধারণ রোগীদের ভোগান্তির যেন অন্ত নেই। সকাল সাড়ে ৮টার আগেই এখানে নতুন রোগীদের সিরিয়াল নেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়।
জরুরি প্যাথলজি টেস্টের রিপোর্ট পেতে ৮-১০ দিন বিলম্ব হবে—এমন অজুহাতে সাধারণ রোগীদের সরকারি এই কেন্দ্র থেকে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সেবাকেন্দ্রের এমন বেহাল দশার জন্য ভুক্তভোগীরা সরাসরি দায়ী করছেন পরিচালক ডা. ঝর্ণা দাসকে। যিনি সরকারি চাকরিবিধি লঙ্ঘন করে টানা ২১ বছর ধরে একই কেন্দ্রে কর্মরত রয়েছেন।
অভিযোগে জানা গেছে, ডা. ঝর্ণা দাস বিতর্কিত ধর্মীয় সংগঠন ‘ইসকন’-এর সক্রিয় সদস্য ও ডোনার। ইসকন সদস্যরা নিয়মিত তার অফিস কক্ষে যাতায়াত করেন এবং সেখানে ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে গোপন মিটিং চলে। সাধারণ রোগীরা ভোগান্তির শিকার হলেও ইসকন সদস্যরা এই সরকারি কেন্দ্রে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এবং নির্ধারিত সময়ের আগেই সব ধরনের জটিল টেস্ট ও রিপোর্ট পেয়ে যান বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে।
সরেজমিনে তদন্তে দেখা গেছে, কেন্দ্রে অত্যাধুনিক চারটি আলট্রাসনো মেশিন থাকা সত্ত্বেও সাধারণ রোগীদের জন্য দিনে মাত্র ২৫-৩০টি টেস্ট করা হয়। অথচ পরিচালক ডা. ঝর্ণা দাস সরকারি কেন্দ্রে রোগী দেখা বন্ধ রাখলেও সপ্তাহে ছয়দিন সরকারি গাড়ি ব্যবহার করে খুলনার একাধিক বেসরকারি প্যাথলজি ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চড়া ফিতে নিয়মিত আলট্রাসনো ও টিভিএস টেস্ট করে ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হচ্ছেন।
প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানান, পরিচালকের স্বেচ্ছাচারিতা ও খামখেয়ালিপনায় কেন্দ্রে অনিয়ম জেঁকে বসেছে। কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী তাঁর অন্যায়ের প্রতিবাদ করলে প্রকাশ্যে অপমান, হয়রানিমূলক বদলি বা এসিআর খারাপ করে দেওয়া হয়। অতিষ্ঠ হয়ে কেন্দ্রের ১৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী একযোগে বদলি হওয়ার আবেদন করেছেন এবং পরিচালকের কেনাকাটার দুর্নীতি তদন্তে পরমাণু শক্তি কমিশনে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
এসব গুরুতর অভিযোগের প্রসঙ্গে কথা বলতে খুলনা পরমাণু চিকিৎসাকেন্দ্রে গিয়ে ডা. ঝর্ণা দাসকে পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি গণমাধ্যমের সাথে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান এবং এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য না করে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।







