দেশজুড়ে রাজনৈতিক সহিংসতা ও খুনোখুনি উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। শাসক ও বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের পাশাপাশি বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। আধিপত্য বিস্তার, রাজনৈতিক প্রতিশোধ, চাঁদাবাজি, স্থাপনা দখল এবং দলীয় কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে এসব সহিংসতা ঘটছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম পাঁচ মাসে সারা দেশে প্রায় ৩৫০টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় ৫৫ জনের বেশি মানুষ নিহত এবং আড়াই হাজারেরও বেশি আহত হয়েছেন। শুধু বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের অভ্যন্তরীণ বিরোধেই ৯০টি ঘটনায় ১৬ জন নিহত এবং ৮৫৩ জন আহত হয়েছেন। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় সহিংসতার মাত্রা দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে।
মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক), মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ) এবং হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, দখলদারিত্ব, চাঁদাবাজি, বালুমহাল ও বাজার নিয়ন্ত্রণ এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়াই সহিংসতা বৃদ্ধির প্রধান কারণ।
সম্প্রতি গাইবান্ধা, রাজবাড়ী, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিক সংঘর্ষে একাধিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও আধিপত্য বিস্তারের বিষয়টি সামনে এসেছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ ও অপরাধ গবেষক ড. তৌহিদুল হক বলেন, রাজনৈতিক পদ-পদবি ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে সুবিধা নেওয়ার প্রবণতা থেকে সহিংসতা বাড়ছে। তিনি জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
পুলিশের অতিরিক্ত আইজি (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেছেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
মানবাধিকার কর্মীরা মনে করেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সহনশীলতার সংস্কৃতি, আইনের শাসন এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা না গেলে দেশের রাজনৈতিক সহিংসতা আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।







