রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক ভর্তি পরীক্ষায় এক পরীক্ষার্থীর আইফোন ১৩ হারানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির ও ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থীর মধ্যে পারস্পরিক বিরোধী দাবি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে। তবে ঘটনাটির গভীরে ভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে এবং ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে একে ‘মিডিয়া মিসলিড’ ও রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের চেষ্টা বলে দাবি করা হয়েছে।
মূল ঘটনা অনুসন্ধানে জানা গেছে, ভর্তি পরীক্ষার দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের বুথগুলো থেকে মূলত তথ্য সেবা, বিশুদ্ধ পানি, পরীক্ষার্থীদের প্রাথমিক চিকিৎসা এবং অভিভাবকদের বসার ব্যবস্থা করা হচ্ছিল। সেখানে ব্যাগ বা মোবাইল ফোন রাখার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ বা পূর্বপ্রস্তুতি ছিল না। তবে হলে ব্যাগ বা ফোন নিয়ে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকায় পরীক্ষার্থীদের বিশেষ অনুরোধে বুথে সাময়িকভাবে ব্যাগ রাখার অনুমতি দেওয়া হয়।
ছাত্রশিবিরের দায়িত্বশীলদের দাবি, ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থী আবদুল্লাহ বুথে শুধু একটি ব্যাগ জমা রেখেছিলেন। নিয়ম অনুযায়ী মোবাইল ফোন জমা দেওয়ার জন্য আলাদা টোকেন নেওয়ার ব্যবস্থা থাকলেও, ওই পরীক্ষার্থী ব্যাগের ভেতরে যে আইফোন ছিল—তা জমা দেওয়ার সময় বুথের ভলান্টিয়ারদের অবহিত করেননি। পরে পরীক্ষা শেষ করে তিনি ব্যাগটি বুঝে নেওয়ার পর দাবি করেন, ব্যাগের ভেতরে থাকা তাঁর আইফোন ১৩-টি পাওয়া যাচ্ছে না।
শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মেহেদী হাসান বলেন, ‘আমাদের বুথে টোকেন ছাড়া কোনো মোবাইল ফোন গ্রহণ করা হচ্ছিল না। ওই ছেলেটি অনুরোধ করায় আমরা কেবল তাঁর ব্যাগটি রেখেছিলাম। পরে তিনি এসে ব্যাগের ভেতর ফোন থাকার দাবি করেন। বিষয়টি জানার পর আমাদের ভলান্টিয়াররা তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে প্রক্টর অফিসে এবং পরবর্তীতে থানায় নিয়ে যান।’
এদিকে ভুক্তভোগী আবদুল্লাহর দাবি, তিনি ফোন জমা দিয়ে টোকেন পেয়েছিলেন এবং পরীক্ষা শেষে টোকেন জমা দেওয়ার পর ফোনটি খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরের পরামর্শে ওই দিনই থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। তবে জিডিতে ‘চুরি’ না লিখে ‘হারিয়ে গেছে’ উল্লেখ করার বিষয়ে ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল জানান, দেশের প্রচলিত আইনি নিয়ম অনুযায়ী তাৎক্ষণিক মামলা ছাড়া জিডিতে চুরি শব্দটা লেখা যায় না, হারিয়ে গেছেই লিখতে হয়।
শাখা শিবিরের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল আরও বলেন, ‘শত শত পরীক্ষার্থী তাঁদের ব্যাগ ও ফোন সঠিকভাবে ফেরত পেলেও প্রচণ্ড ভিড়ের সুযোগে একটি ব্যাগ থেকে ফোন মিসিং হওয়ার ঘটনা ঘটে। আমরা ভুক্তভোগীকে সাথে নিয়ে জিডি করেছি এবং পুলিশ প্রশাসন ও প্রক্টরিয়াল বডির সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। সাধারণত ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে ফোন উদ্ধারে কিছুটা সময় লাগে। কিন্তু ভুক্তভোগী সময় দিতে রাজি না হয়ে অবিলম্বে জরিমানার টাকা দাবি করছেন। একই সাথে একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল নোংরা রাজনীতি করার চেষ্টা করছে এবং তাদের সিট দখলের ইস্যু ধামাচাপা দিতে এটি ব্যবহার করছে।’
বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর মাহবুবর রহমান এই বিষয়ে বলেন, ‘ভর্তি পরীক্ষার সময় বিভিন্ন সামাজিক ও ছাত্রসংগঠনকে বুথ বসানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। ওই পরীক্ষার্থী আমার কাছে আসার পর আমি তাকে থানায় জিডি করার পরামর্শ দিই। তবে এই ঘটনার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক দায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নেবে না। বিষয়টি এখন পুলিশ দেখছে।’







