তীব্র ও বিপজ্জনক দাবদাহের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলে দেশটির ঐতিহ্যবাহী স্বাধীনতা দিবস (৪ঠা জুলাই) উদযাপন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এমনকি রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত ‘গ্রেট আমেরিকান স্টেট ফেয়ার’ তীব্র গরমের কারণে সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন আয়োজকরা। পরবর্তীতে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলে মেলাটি পুনরায় চালু করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের আবহাওয়া দপ্তর ‘ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস’ জানিয়েছে, দেশের পূর্ব উপকূল ও মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলে প্রায় ১৬ কোটি ৫০ লাখেরও বেশি মানুষ রেকর্ড মাত্রার তীব্র তাপমাত্রার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। একই সময়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিশেষ উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং বিভিন্ন মাঠে বিশ্বকাপ ফুটবলের একাধিক ম্যাচও অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যার সবই এখন এই তীব্র গরমের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
প্রচণ্ড গরমের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বহু অনুষ্ঠান বাতিল করতে হয়েছে। নিউ জার্সি, পেনসিলভানিয়া, মেরিল্যান্ড থেকে শুরু করে কলোরাডো পর্যন্ত বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে দেশজুড়ে সবচেয়ে বড় আয়োজন ফিলাডেলফিয়ার ‘স্যালুট টু ইন্ডিপেন্ডেন্স সেমিকুইনসেন্টেনিয়াল প্যারেড’ বিপজ্জনক আবহাওয়ার কারণে সম্পূর্ণ বাতিল করা হয়েছে।
ওয়াশিংটন ডিসির ফায়ার অ্যান্ড ইএমএস বিভাগ জানিয়েছে, রেকর্ডভাঙা তাপমাত্রার কারণে মেলায় আসা বেশ কয়েকজন দর্শনার্থী তাপজনিত অসুস্থতায় পড়েছেন। অন্তত ১১ জনকে অ্যাম্বুলেন্সে করে মেলা প্রাঙ্গণ থেকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। গরমের তীব্রতার কারণে ক্যাপিটল হিলের একটি কনসার্টে জনসাধারণের প্রবেশের সময় বিকেল থেকে পিছিয়ে সন্ধ্যায় নির্ধারণ করে ক্যাপিটল পুলিশ।
প্রবল গরমের পূর্বাভাস থাকা সত্ত্বেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে খোলা আকাশের নিচে ভাষণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি বাইরে অনুষ্ঠান করার ইচ্ছা প্রকাশ করে বলেন, “আমি সবকিছু করতে পারি—এটা দেখানোর জন্য খুব দীর্ঘ একটি ভাষণ দেবো।” তবে চিকিৎসকরা এই আবহাওয়ায় বাসিন্দাদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দিয়েছেন।
আবহাওয়াবিদদের মতে, ফিলাডেলফিয়া ও ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুভূত তাপমাত্রা যথাক্রমে ১১২ ডিগ্রি এবং ১১১ ডিগ্রি ফারেনহাইট (প্রায় ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস) পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, যা সর্বকালের রেকর্ড তাপমাত্রার কাছাকাছি। নিউইয়র্ক সিটিতেও ২০১২ সালের পর সবচেয়ে উষ্ণতম দিন পার হচ্ছে। নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি একে ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক আবহাওয়া পরিস্থিতি’ বলে উল্লেখ করেছেন।
পূর্বাভাসে আরও জানানো হয়েছে, শনিবার দেশের মধ্যাঞ্চলে তাপপ্রবাহ কিছুটা কমলেও পূর্বাঞ্চলে তীব্র গরম অব্যাহত থাকবে। এর পাশাপাশি উত্তরাঞ্চলের সমভূমি ও মিডওয়েস্টে তীব্র বজ্রঝড়, শিলাবৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা এবং টর্নেডোর আশঙ্কা করা হচ্ছে। আগামী সপ্তাহে এই দাবদাহ কানাডার পশ্চিমাঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই বিশ্বজুড়ে তাপপ্রবাহ এখন আগের তুলনায় আরও ঘন ঘন, তীব্র এবং দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে। শিল্প বিপ্লবের পর থেকে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ইতোমধ্যে প্রায় ১.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে। বিশ্বজুড়ে কার্বন নিঃসরণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো না গেলে এই বৈশ্বিক তাপমাত্রা ও জলবায়ু সংকট আরও ভয়াবহ রূপ নেবে।







