নোয়াখালীর হাতিয়ার চেয়ারম্যান ঘাট থেকে যাত্রী ও মালবাহী গাড়ি নিয়ে নলচিরা ঘাটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া একটি ফেরি মাঝপথ থেকে পুনরায় ঘাটে ফিরিয়ে আনার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদকে ফেরিতে তুলে নিতে প্রায় ২৩ মিনিট চলার পর ফেরিটি আবার ঘাটে ফিরে আসে। এই ঘটনায় সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল শনিবার (১১ জুলাই) বিকালে মেঘনা নদীতে এই ঘটনা ঘটে।
ফেরির যাত্রী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বিকাল সাড়ে ৩টায় চেয়ারম্যান ঘাট থেকে যাত্রী ও মালবাহী গাড়ি নিয়ে নলচিরা ঘাটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় ফেরি ‘মহানন্দা’। ফেরিটি ছাড়ার কিছুক্ষণ পর গাড়িযোগে চেয়ারম্যান ঘাটে আসেন নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ। তিনি নদী পার হয়ে হাতিয়া যাওয়ার জন্য ফেরি কর্তৃপক্ষকে সেটি পুনরায় ঘাটে ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দেন। ততক্ষণে ফেরিটি নদীপথের ২৩ মিনিট দূরত্ব পার করে ফেলেছিল।
এমপিকে নিতে মেঘনা নদীর মাঝপথ থেকে ফেরিটি ঘুরিয়ে আবার চেয়ারম্যান ঘাটে আনা হলে যাত্রীদের মধ্যে শোরগোল শুরু হয়। পরে এমপি তাঁর নেতাকর্মীদের নিয়ে ফেরিতে উঠলে সেটি নলচিরা ঘাটের উদ্দেশ্যে পুনরায় যাত্রা শুরু করে। ঘাট ইজারাদারের প্রতিনিধি জহির জানান, ফেরির মাস্টার প্রথমে সাড়ে ৩টায় ফেরি ছাড়ার কথা জানান। কিন্তু ছাড়ার প্রায় ২৩ মিনিট পর ফেরিটি আবার ফিরে আসে এমপিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য।
ক্ষুব্ধ যাত্রীরা অভিযোগ করে বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে এমনিতেই তাঁরা এক ধরনের ভয়ের মধ্য দিয়ে নদী পাড়ি দিচ্ছিলেন। এমন পরিস্থিতিতে একজন সংসদ সদস্যের জন্য মাঝপথ থেকে ফেরি ঘুরিয়ে এনে ক্ষমতার দাপট দেখানো হয়েছে। ফেরিটি ঘুরে আসতে যে সময় নষ্ট হয়েছে, ততক্ষণে তাঁরা নলচিরা ঘাটের কাছাকাছি পৌঁছে যেতে পারতেন। আবহাওয়া আরও খারাপ হয়ে গেলে তাঁদের হাতিয়া যাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়ত বলেও জানান তাঁরা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফেরির মেরিন ইঞ্জিনিয়ার সাজ্জাদুল ইসলাম বলেন, চেয়ারম্যান ঘাট থেকে ছাড়ার আনুমানিক ১০ মিনিট পর এমপির জন্য ফেরি ঘাটে ফিরে আসে। তিনি দাবি করেন, এমন ভিআইপিদের ক্ষেত্রে কিছু বিশেষ নিয়ম অনুসরণ করতে হয়, যা সবসময়ই করা লাগে। অন্যদিকে ফেরি মহানন্দার মাস্টার নুরুল আমীন বলেন, তিনি বিস্তারিত কিছু জানেন না। ফেরি ছাড়ার পর মেরিন ইঞ্জিনিয়ার তাঁকে জানান যে ঘাটে এমপি এসেছেন এবং ফেরি ঘুরিয়ে তাঁকে নিয়ে যেতে হবে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা ও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষের যাতায়াতের জন্য নির্ধারিত একটি গণপরিবহনকে একজন ভিআইপির ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য মাঝপথ থেকে ফিরিয়ে আনা কতটা যৌক্তিক, তা নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন। তবে এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদ কোনো কথা বলতে রাজি হননি।







