বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এবং বর্তমান সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরীর বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিশেষ উপবৃত্তি বিতরণে চরম বৈষম্য ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। মাগুরা-২ আসনের এই সংসদ সদস্য তাঁর নির্বাচনী এলাকার ৩২ জন শিক্ষার্থীকে উপবৃত্তির টাকা প্রদান করেছেন, যার মধ্যে সবাই হিন্দু সম্প্রদায়ের। একজন মুসলিম শিক্ষার্থীকেও এই সরকারি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না করায় স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সুশীল মহলের প্রশ্ন, সরকারি তহবিল থেকে দেওয়া এই উপবৃত্তিতে কেন সাধারণ মুসলিম শিশু শিক্ষার্থীদের পুরোপুরি বঞ্চিত করা হলো? বিএনপির পক্ষ থেকে প্রায়শই একটি ‘অসাম্প্রদায়িক’ বাংলাদেশ গড়ার যে দাবি তোলা হয়, দলটির শীর্ষ নেতার এমন পক্ষপাতমূলক আচরণ তার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করছেন অনেকে। এই বৈষম্যমূলক উপবৃত্তি বিতরণের স্পষ্ট জবাব দিতে নিতাই রায় চৌধুরীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এদিকে, উপবৃত্তি বিতরণে এমন বিতর্কের পাশাপাশি ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ চালুর বিষয়েও মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর ভূমিকা ও নানা বক্তব্য নিয়ে সমালোচনা তৈরি হয়েছে। কুমিল্লার ময়নামতি জাদুঘর ও শালবন বিহার পরিদর্শনকালে তিনি সাংবাদিকদের জানান, শিগগিরই জুলাই স্মৃতি জাদুঘর সবার জন্য খুলে দেওয়া হবে।
পরিদর্শনকালে মন্ত্রী দাবি করেন, বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জুলাই জাদুঘরের ব্যবস্থাপনা কমিটি কিছুটা ‘এলোমেলো’ বা অগোছালো ছিল। বর্তমান সরকার সেই অসঙ্গতিগুলো দূর করে নতুন কমিটি গঠন করেছে এবং এ বিষয়ে জাতীয় সংসদেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। খুব দ্রুত সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জাদুঘর উদ্বোধনের তারিখ ও বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রকাশ করা হবে।
তবে সচেতন মহল মন্ত্রীর এই বক্তব্যকে পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের কাজের ওপর দায় চাপানোর বা ‘টালবাহানা’ করার একটি কৌশল হিসেবে দেখছেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার মতো একটি সংবেদনশীল বিষয়ে মন্ত্রীর এমন মন্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।







