জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় (জাককানইবি) শাখা ছাত্রদলের নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক তোফায়েল আহমেদের বিরুদ্ধে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ উঠেছে। গত ৮ জুলাই কমিটি ঘোষণার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে ক্যাম্পাসজুড়ে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আইন ও বিচার বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তোফায়েল আহমেদ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদ ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি পদে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি ওই পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেননি বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে তোফায়েলের দাবি, তৎকালীন রাজনৈতিক বাস্তবতা ও ছাত্রত্ব রক্ষার প্রয়োজনেই তিনি ছাত্রলীগের কিছু কর্মসূচিতে অংশ নিতে বাধ্য হয়েছিলেন।
গত ৮ জুলাই কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ৬৮ সদস্যবিশিষ্ট জাককানইবি শাখা ছাত্রদলের নতুন আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে হাবিবুর রহমান হাবিবকে আহ্বায়ক এবং মারুফ হাসানকে সদস্য সচিব করা হয়। এই কমিটিতেই তোফায়েল আহমেদ ৭ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পান।
কমিটি ঘোষণার পরপরই অভিযোগ ওঠে যে, তোফায়েল দীর্ঘদিন ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন এবং আইন অনুষদ ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটিতে ৭ নম্বর সহ-সভাপতি হিসেবে রয়েছেন। দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে নতুন কমিটিতে রাতারাতি গুরুত্বপূর্ণ পদ পেয়েছেন বলে সমালোচকরা দাবি করছেন।
এদিকে, আইন ও বিচার বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা মো. মহিন উদ্দিন অভিযোগ করেন, তোফায়েল আহমেদ মামলা করার ভয় দেখিয়ে তাকে ব্ল্যাকমেইল করেছেন এবং মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করেছেন। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে তোফায়েল আহমেদ বলেন, মহিন তাঁর বিরুদ্ধে মামলা বাণিজ্য কিংবা দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবির যে অভিযোগ এনেছেন, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে তোফায়েল বলেন, তৎকালীন সময়ে ক্যাম্পাস ও হলের পরিবেশ এমন ছিল যে ছাত্রত্ব টিকিয়ে রাখতে অনেককেই কৌশলে চলতে হতো। মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান হওয়ায় ছাত্রত্ব চলে যাওয়ার ভয়ে বাধ্য হয়ে কিছু কর্মসূচিতে অংশ নিতে হয়েছে। তবে ২০২২ সাল থেকে এবং ২০২৪ সালের আন্দোলনের আগেও তিনি প্রকাশ্যে ফেসবুক পোস্ট ও ভিডিও বার্তার মাধ্যমে ছাত্রদলের রাজনীতি করেছেন বলে দাবি করেন।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব এ বিষয়ে বলেন, তাঁরা বিষয়টি খতিয়ে দেখেছেন। তোফায়েল জুলাই আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন এবং ছাত্রদলের বিভিন্ন কর্মসূচিতেও অংশ নিয়েছেন, যা যাচাই-বাছাই করেই তাঁকে কমিটিতে রাখা হয়েছে। এর পরও যদি ছাত্রলীগের সঙ্গে তাঁর বর্তমান কোনো সম্পৃক্ততার অকাট্য প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে সাংগঠনিকভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।







