বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ, আহত, পঙ্গুত্ববরণকারী ও জুলাই যোদ্ধাদের আত্মত্যাগের কারণেই নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান না হলে বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হতো না। তাই জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নই এখন জাতির প্রধান দায়িত্ব।
মঙ্গলবার রাজধানীর আল-ফালাহ মিলনায়তনে ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের দ্বিতীয় সাধারণ অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বুধবার সংগঠনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
নূরুল ইসলাম বলেন, জুলাইয়ের শহীদদের স্বপ্ন ছিল বৈষম্যহীন, ইনসাফভিত্তিক, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা। সেই লক্ষ্য অর্জনে জাতীয় ঐক্য আরও শক্তিশালী করতে হবে এবং সব দেশপ্রেমিক শক্তিকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি বিশেষভাবে ছাত্রসমাজকে সততা, নৈতিকতা ও দেশপ্রেমের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ, আদর্শিক ও দায়িত্বশীল জনশক্তি গড়ে তুলতে হবে। প্রতিটি সদস্যকে নিজের পড়াশোনাকেই আন্দোলনের অংশ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। পাশাপাশি পর্দা, তাকওয়া, নৈতিকতা ও আমানতদারিতার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা অব্যাহত রাখারও আহ্বান জানান তিনি।
শিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহর সঞ্চালনায় আয়োজিত দিনব্যাপী অধিবেশনের উদ্বোধন করেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ মো. রায়হান হোসেনের বাবা মো. মোজাম্মেল হক। পরে কেন্দ্রীয় সভাপতি উদ্বোধনী বক্তব্যের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এবং মাওলানা আব্দুল হালিম।
এ ছাড়া ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, নূরুল ইসলাম বুলবুল, মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন ও জাহিদুল ইসলামসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
অধিবেশনে কেন্দ্রীয় কার্যক্রমের ষাণ্মাসিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা, জেলা সংগঠনের কাঠামো অনুমোদন, ক্যাম্পাস পরিস্থিতি মূল্যায়ন, দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
সভায় কেন্দ্রীয় সভাপতি ২০২৬ সেশনের কার্যকরী পরিষদের উপনির্বাচনে নির্বাচিত ১২ জন সদস্যের নাম ঘোষণা করেন। পাশাপাশি কার্যকরী পরিষদে একজন সদস্যকে মনোনয়ন দিয়ে নবনির্বাচিত ও নবমনোনীত সদস্যদের শপথ পাঠ করান।







