প্রতিবেশী ভারত বাংলাদেশের প্রায় সব রাজনৈতিক দলকে আমন্ত্রণ জানালেও শুধু জামায়াতে ইসলামীর জন্য ‘লাল কার্ড’ দেখিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান। তবে এতে তাঁদের কোনো উদ্বেগ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভারতের মাটিতে আশ্রয় নেওয়ার চিন্তা জামায়াত করে না, কারণ তাঁদের আশ্রয়ের জায়গা বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের অন্তর।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি) মিলনায়তনে জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ আয়োজিত শহীদ আবু সাঈদসহ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অনেকেই প্রতিবেশী দেশ নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন। আমরাই একমাত্র দল, যাদের তারা পছন্দ করে না। তারা বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দলকে ভারতের মাটিতে আমন্ত্রণ জানালেও শুধু জামায়াতে ইসলামীর জন্য লাল কার্ড দেখিয়েছে। কিন্তু আমরা সেই লাল কার্ডের পরোয়া করি না এবং ভারতের মাটিতে আশ্রয় নেওয়ার চিন্তাও করি না। এই দেশই আমাদের দেশ এবং আমাদের আশ্রয়ের জায়গা এ দেশের মানুষের মন।
তিনি বলেন, আল্লাহর কসম, জীবন দেব কিন্তু ‘২৪’ হারিয়ে যেতে দেব না। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের অর্জন নষ্ট করে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। অতীতের আন্দোলন-সংগ্রামের অবদান অস্বীকার করা যায় না, তবে ২০২৪ সালের পরিবর্তন না হলে বর্তমান সংসদ, সরকার কিংবা বিরোধীদলীয় নেতার অবস্থান তৈরি হতো না।
সরকারের কয়েকজন মন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, কিছু মন্ত্রী দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য করছেন। সংসদে এসব বিষয় উত্থাপন করলে তা সংসদের বাইরের বিষয় বলে এড়িয়ে যাওয়া হয়, অথচ বিরোধীদের সমালোচনা করতে গিয়ে বহু পুরোনো ঘটনাও টেনে আনা হয়।
তিনি বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজিমুক্ত রাষ্ট্র গঠন এবং মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। কিন্তু এই সব প্রতিশ্রুতির বাস্তব প্রতিফলন এখনো দেখা যাচ্ছে না।
সংবিধান সংশোধন ও গণভোটের প্রসঙ্গ তুলে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গণভোটের চারটি প্রশ্ন জনগণ বুঝতে পারেনি—এ ধরনের বক্তব্য জাতিকে অপমান করার শামিল। জনগণ সচেতনভাবেই গণভোটে মত দিয়েছে এবং সেই গণরায়কে উপেক্ষা করার কোনো সুযোগ নেই।
সংবিধান সংশোধন কমিটি নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, সংবিধানে এমন কোনো কমিটির বিধান নেই। এটি মূলত জুলাইয়ের চেতনা ও গণভোটের রায়কে আড়াল করার একটি অপচেষ্টা। এ কারণেই সংসদে তাঁদের দল ওয়াকআউট করেছে।
আলোচনা সভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের সঞ্চালনায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল।







