যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর জাতির উদ্দেশে প্রথম ভাষণ দিয়েছেন অ্যান্ডি বার্নহাম। সোমবার (২০ জুলাই) বাকিংহাম প্যালেসে রাজা চার্লসের আমন্ত্রণ গ্রহণের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে সরকার গঠন করেন তিনি। দায়িত্বের শুরুতেই দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোয় গত চার দশকের সবচেয়ে বড় সংস্কারের অঙ্গীকার করেন নতুন প্রধানমন্ত্রী।
প্রথম ভাষণে বার্নহাম বলেন, গত এক দশকে বারবার প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তনের ফলে জনগণের মধ্যে রাজনীতির প্রতি আস্থা কমেছে এবং অনেকেই হতাশ হয়েছেন। তিনি স্বীকার করেন, পূর্ববর্তী সরকারগুলো জনগণের প্রত্যাশা পূরণে পুরোপুরি সফল হয়নি। এ পরিস্থিতি পরিবর্তনে আরও কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক সরকার গঠনের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
নতুন প্রধানমন্ত্রী জানান, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা শুধু লন্ডনকেন্দ্রিক না রেখে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিকেন্দ্রীকরণ করা হবে। একই সঙ্গে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে সরকারের নজরদারি জোরদার করে জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি, মানসিক স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণ এবং সরকারি আবাসন নির্মাণকে সরকারের অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি চলতি বছরের শেষ নাগাদ দেশের উন্নয়নের জন্য ১০ বছর মেয়াদি একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রকাশের ঘোষণা দেন। তবে জীবনযাত্রার ব্যয়সংকট মোকাবিলায় আগামীকাল থেকেই কিছু তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ বাস্তবায়ন শুরু হবে বলেও জানান তিনি।
দায়িত্ব গ্রহণের পর নিজের প্রথম অগ্রাধিকার হিসেবে গৃহহীনতা এবং রাস্তায় রাত কাটাতে বাধ্য হওয়া মানুষের সমস্যা সমাধানের ঘোষণা দেন বার্নহাম। ডাউনিং স্ট্রিটে প্রবেশের আগে দেশবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, বিভেদ ভুলে নতুন আস্থা ও আশার ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধভাবে ব্রিটেনকে এগিয়ে নেওয়ার সময় এখনই।







