বিকেলে বাবার দাফন সম্পন্ন করে রাতেই বই হাতে ফিরতে হয়েছে এটিএম বুথের নাইট ডিউটিতে, আর পরদিন সকালেই বসতে হচ্ছে উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষায়। জীবনের চরম ও নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে শোক আর সংগ্রামের এমন এক অদম্য গল্প তৈরি করেছেন বাগেরহাটের শিক্ষার্থী ইকন।
বাগেরহাট শহরের মুনিগঞ্জ মেডিকেল স্কুল রোড এলাকার বাসিন্দা সদ্য প্রয়াত ইসরাফিল দাড়িয়ার ছোট ছেলে ইকন। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ভোরে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে ইসরাফিল দাড়িয়ার মৃত্যু হয়। জোহরের নামাজের পর জানাজা শেষে গোপালগঞ্জে গ্রামের বাড়িতে মায়ের কবরের পাশে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও দুই ছেলেকে রেখে যান।
পরিবারের বড় ছেলে ইমন আগে মোটরসাইকেল চালিয়ে পরিবারকে সহায়তা করলেও সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। ফলে পরিবারের একমাত্র ভরসা হয়ে ওঠেন ছোট ছেলে ইকন। চলতি বছর বাগেরহাট খান জাহান আলী ডিগ্রি কলেজ থেকে মানবিক বিভাগে এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছেন তিনি। সংসারের চাকা সচল রাখতে পড়াশোনার পাশাপাশি শহরের কৃষি ব্যাংকের একটি এটিএম বুথে রাতের শিফটে খণ্ডকালীন চাকরি করেন এই তরুণ।
বাবার দাফন শেষে মঙ্গলবার রাতেই অশ্রুসজল চোখে কর্মস্থলে যোগ দেন ইকন। রাত ১০টায় এটিএম বুথে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি পরদিনের ‘ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি’ পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে দেখা যায় তাঁকে। বুকভরা শোক আর গভীর অনিশ্চয়তার মধ্যেও পরিবারের দায়িত্ব সামলাতে কাজে ফিরতে হয়েছে তাঁকে।
একদিকে প্রিয় পিতাকে হারানোর যন্ত্রণা, অন্যদিকে অসুস্থ ভাই ও সংসারের হাল ধরার গুরুদায়িত্ব—সব মিলিয়ে ইকনের জীবন এখন কঠিন এক লড়াইয়ের নাম। তবে জীবনের এই কঠিন মুহূর্তেও তাঁর দায়িত্ববোধ ও পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার অদম্য মানসিকতা স্থানীয়দের গভীরভাবে স্পর্শ ও আবেগপ্লুত করেছে।







