তিন বছর তিন মাস দায়িত্ব পালনের পর পদত্যাগ করেছেন বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। পাঁচ বছরের সাংবিধানিক মেয়াদের এখনও এক বছর নয় মাস বাকি থাকতেই তিনি দায়িত্ব ছাড়েন। রাষ্ট্রপতির পদ থেকে মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই বিদায় নেওয়া বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি নতুন কোনো ঘটনা নয়; স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা, সামরিক অভ্যুত্থান, স্বাস্থ্যগত কারণ কিংবা ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে একাধিক রাষ্ট্রপতির দায়িত্বকাল অসমাপ্ত থেকেছে।
২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মো. সাহাবুদ্দিন। ২০২৪ সালের আগস্টে সরকার পরিবর্তনের পরও তিনি দায়িত্বে বহাল ছিলেন এবং তাঁর কাছেই অন্তর্বর্তী সরকারের সদস্যরা শপথ নেন। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তাঁর পদত্যাগের দাবি একাধিকবার ওঠে। সে সময় বিএনপি সাংবিধানিক সংকটের আশঙ্কায় তাঁকে পদে বহাল রাখার পক্ষে অবস্থান নেয়।
পরবর্তীতে এক সাক্ষাৎকারে মো. সাহাবুদ্দিন জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তিনি নিজেকে অপমানিত মনে করেছেন এবং জাতীয় নির্বাচনের পর পদত্যাগের ইচ্ছা রয়েছে। ২০২৬ সালের নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠনের শপথও তিনি পরিচালনা করেন। এরপরও তাঁকে রাখা হবে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলতে থাকে।
অবশেষে ২৪ জুলাই গুরুতর শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি।
স্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতিদের ইতিহাসে মেয়াদ পূর্ণের আগেই দায়িত্ব ছাড়ার নানা নজির রয়েছে। ১৯৭৩ সালে রাষ্ট্রপতি আবু সাঈদ চৌধুরী স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও পরে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সামরিক অভ্যুত্থান ও হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। একই বছর খন্দকার মোশতাক আহমদ ক্ষমতাচ্যুত হন এবং বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমও মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই দায়িত্ব ছাড়েন।
পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি আবদুস সাত্তার সামরিক অভ্যুত্থানে অপসারিত হন, এইচ এম এরশাদ গণঅভ্যুত্থানের মুখে পদত্যাগ করেন এবং এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী মাত্র সাত মাস দায়িত্ব পালনের পর পদত্যাগ করেন। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান দায়িত্বে থাকাকালীন মৃত্যুবরণ করেন।
অন্যদিকে, আব্দুর রহমান বিশ্বাস, বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ এবং আবদুল হামিদ তাঁদের সাংবিধানিক দায়িত্বকাল সফলভাবে সম্পন্ন করেন। এর মধ্যে আবদুল হামিদ টানা দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি হিসেবে রেকর্ড গড়েন।
মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের মধ্য দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি পদের ইতিহাসে আরেকটি অসমাপ্ত মেয়াদের অধ্যায় যুক্ত হলো।







