নারী কেলেঙ্কারির ঘটনায় জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে নতুন নতুন চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে আসছে। বুধবার (২৯ জুলাই) তাঁর ব্যক্তিগত গাড়িচালক ও ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা তরুণীর মামা ওবায়দুর রহমান এ বিষয়ে মুখ খোলেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, চাকরি, সরকারি কাজ পাইয়ে দেওয়া, ঠিকাদারি লাইসেন্স প্রদানসহ নানা সুযোগ-সুবিধার প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব খাটিয়ে আসছিলেন এই সংসদ সদস্য।
ওবায়দুর রহমান জানান, আত্মীয়তার সূত্রে এমপি গাজী নজরুল ইসলাম ওই পরিবারের ঘনিষ্ঠ ছিলেন এবং নির্বাচনের আগে থেকেই ঢাকার পল্লবীতে তাঁদের বাসায় নিয়মিত যাতায়াত করতেন। সংসদ সদস্য হিসেবে হোস্টেলে ফ্ল্যাট পাওয়ার পরও তিনি প্রায়ই সেখানে যেতেন। পরবর্তীতে গোপন যোগাযোগের বিষয়টি উন্মোচিত হলে তা ধামাচাপা দিতে এমপি নজরুল টাকার প্রস্তাব, নোয়া গাড়ি, সংসদ ভবনে চাকরি এবং তথাকথিত ‘মুতা বিয়ে’র প্রলোভন দেখান। তবে কোনো প্রস্তাব গ্রহণ না করে অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় গত ১৪ জুলাই ওবায়দুরের ওপর হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় ২১ জুলাই রাজধানীর পল্লবী থানায় হত্যাচেষ্টার মামলা হলে ইতোমধ্যে দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
তরুণীর পরিবারকে বিভিন্ন অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে ওবায়দুর আরও জানান, তরুণীর বাবা মাসুম বিল্লাহর নামে ‘মাসুম এন্টারপ্রাইজ’সহ একাধিক প্রথম শ্রেণির ঠিকাদারি লাইসেন্স সংগ্রহ এবং সরকারি কাজ পাইয়ে দিতে সংসদ সদস্য নিজের প্রভাব ব্যবহার করেছিলেন। বর্তমানে জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন জানিয়ে ওবায়দুর রহমান বলেন, কোনো প্রলোভনে রাজি না হয়ে সত্য তুলে ধরেছেন তিনি। এদিকে অভিযোগগুলোর বিষয়ে বক্তব্য জানতে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এমপি গাজী নজরুলের এই নৈতিকস্খলনের ঘটনায় ইতোমধ্যে শ্যামনগরসহ পুরো সাতক্ষীরায় তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় গত ২২ জুলাই জামায়াতে ইসলামী তাঁকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করে। ঘটনার পর থেকে স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল, প্রতিবাদ সমাবেশ ও কুশপুত্তলিকা দাহসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। রাজপথে নেমে আসা ক্ষুব্ধ জনতা ও সচেতন মহল নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে তাঁর সংসদ সদস্য পদ শূন্য ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন।







