তীব্র গ্যাস–সংকটের মধ্যে বিদ্যুৎ ও সিএনজি খাতে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাবের প্রতিবাদে রাজধানীতে প্রতীকী কর্মসূচি পালন করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। শনিবার বিকেলে বাসন ও পাতিল হাতে রাজধানীর সার্ক ফোয়ারা থেকে পেট্রোবাংলা ভবনের উদ্দেশে ‘প্রতীকী মার্চ’ করেন দলটির ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার নেতাকর্মীরা।
‘রাজধানীসহ দেশজুড়ে বাসাবাড়ি, শিল্পকারখানা ও পরিবহনে গ্যাসের তীব্র সংকট এবং মূল্যবৃদ্ধির ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে’ আয়োজিত এ কর্মসূচিতে এনসিপি নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, চলমান সংকটের মধ্যে গ্যাসের দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হলে পেট্রোবাংলা ভবন অবরোধ করা হবে এবং কর্মকর্তাদের ভবনে প্রবেশ বা বের হতে দেওয়া হবে না।
সমাবেশে এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব অভিযোগ করেন, জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার পরিবর্তে পেট্রোবাংলা ও তিতাসের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্নীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। তিনি দাবি করেন, এসব প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ ও পদোন্নতিতে বিপুল অঙ্কের অর্থের লেনদেন হয়, যার সুবিধাভোগী সরকারের উচ্চপর্যায় পর্যন্ত।
গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব কার্যকর করার চেষ্টা করা হলে ঢাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে পেট্রোবাংলা ভবন ঘেরাও করা হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি। আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, গ্যাসের সংকটে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে গৃহিণীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। এ কারণেই প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে খালি বাসন ও পাতিল হাতে নিয়ে তারা পেট্রোবাংলা অভিমুখে মার্চ করেছেন। দ্রুত সংকটের সমাধান না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের মাধ্যমে জ্বালানিমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের পদত্যাগের দাবি আদায় করা হবে বলেও জানান তিনি।
ঢাকা মহানগর উত্তর এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল মনসুর বলেন, আগামী ১০ আগস্টের মধ্যে গ্যাস–সংকটের সমাধান না হলে জনগণ গ্যাস অফিস ঘেরাও করবে। তিনি অভিযোগ করেন, যেভাবে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে, একইভাবে গ্যাসের দাম বাড়ানোর চেষ্টা হলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব জয়নাল আবেদীন শিশির, ঢাকা মহানগর উত্তরের যুগ্ম আহ্বায়ক অহিদুল আলম এবং অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান।
সমাবেশ শেষে সার্ক ফোয়ারা থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি পেট্রোবাংলা ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে আরিফুল ইসলাম আদীব জানান, গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে ধারাবাহিক কর্মসূচি চলবে। পাশাপাশি দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বিরুদ্ধেও শিগগিরই বৃহত্তর আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি পেট্রোবাংলা বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক চিঠিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে গ্যাসের দাম ৬৭ শতাংশ এবং সিএনজি খাতে ৫১ শতাংশ বাড়ানোর নীতিগত অনুমোদন চেয়েছে। একই সঙ্গে ছয়টি গ্যাস বিতরণ কোম্পানির বিতরণ চার্জ বৃদ্ধিরও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সরকারি অনুমোদন মিললে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কাছে মূল্যবৃদ্ধির আনুষ্ঠানিক আবেদন করা হবে। পরে গণশুনানির মাধ্যমে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।







