ভোলার তজুমদ্দিনের মো. ভেলা ওমরিয়া দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক মো. মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে ২০ বছর ধরে মৃত শিক্ষকের বেতন-ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ ওঠে। মাদ্রাসার সুপার মো. নুরুজ্জামান এ বিষয়ে মাদ্রাসা বোর্ডের মহাপরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে দাবি করা হয়, ১৯৯৪ সালে নিয়োগপ্রাপ্ত জুনিয়র শিক্ষক মো. মহিউদ্দিন মারা যাওয়ার পর একই নামের অন্য এক ব্যক্তি ২০০৬ সালে নিয়োগ পেয়ে মৃত শিক্ষকের ব্যাংক হিসাব ও তথ্য ব্যবহার করে এতদিন বেতন তুলে আসছেন।
তবে অনুসন্ধানে এই গুরুতর অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। অভিযুক্ত শিক্ষক মো. মহিউদ্দিনের ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও ইনডেক্স নম্বর যাচাই করে দেখা যায়, মৃত শিক্ষকের তথ্যের সঙ্গে তাঁর ব্যাংক দলিলের কোনো মিল নেই। রূপালী ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট শাখার ব্যবস্থাপকও নিশ্চিত করেছেন যে অভিযুক্ত শিক্ষক নিজস্ব বৈধ ব্যাংক হিসাব নম্বর থেকেই নিয়মিত বেতন-ভাতা উত্তোলন করে থাকেন।
অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, ২০১১ সালে শিক্ষক মহিউদ্দিন ইনডেক্সধারি হওয়ার পর ভুলবশত মৃত শিক্ষকের ব্যাংক নম্বরে বেতন যুক্ত হয়েছিল। বিষয়টি নজরে আসার পরই তিনি শিক্ষা বোর্ডের মহাপরিচালক বরাবর আবেদন করে ভুল সংশোধন করান। এরপর সংশোধনকৃত হিসাবেই তাঁর বেতন স্থানান্তর করা হয় এবং ২০১৩ সালে নতুন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার পর থেকে তিনি নিয়মিত সেখান থেকেই বেতন তুলে আসছেন।
এ নিয়ে বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশের পর শিক্ষক মো. মহিউদ্দিন সংবাদ সম্মেলন ডেকে অভিযোগটিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবি করে যাবতীয় প্রমাণাদি উপস্থাপন করেন। অন্যদিকে, যে সুপার অভিযোগ করেছেন, তাঁর নিজের স্বাক্ষরিত সেলারি শিটের মাধ্যমেই ওই শিক্ষক বেতন পেয়ে আসছিলেন। এ বিষয়ে মন্তব্য নিতে সাংবাদিকরা মাদ্রাসায় গেলে অভিযুক্ত সুপার মো. নুরুজ্জামান লোকচক্ষুর আড়ালে সটে পড়েন এবং তাঁর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। স্থানীয় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জানান, পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।







