মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর ওপর চালানো হামলায় ইরান তাদের অন্যতম শক্তিশালী ‘খেইবার শেকান’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি করছে। মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ বিভ্রান্ত ও অকার্যকর করতে তেহরান এক বিশেষ যুদ্ধকৌশল গ্রহণ করেছে বলে জানা গেছে।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান একই সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের উড্ডয়ন পথ (ফ্লাইট পাথ), ভিন্ন ভিন্ন গতি এবং কৌশলগতভাবে দিক পরিবর্তন করতে সক্ষম ওয়ারহেড ব্যবহার করছে। এর পাশাপাশি ঝাঁকে ঝাঁকে ড্রোন এবং অন্যান্য কম অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র একসঙ্গে উৎক্ষেপণ করা হচ্ছে, যার মূল উদ্দেশ্য হলো মার্কিন রাডার ও এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমকে ব্যস্ত রেখে মূল আঘাতটি নিশ্চিত করা।
এই সমন্বিত আক্রমণ কৌশলের মুখে মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের একাংশ স্বীকার করেছেন যে, যদিও তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সক্ষম হচ্ছে, তবুও কিছু ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিরক্ষা বুহ্য ভেদ করে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানছে। মার্কিন বাহিনীর জন্য এটি বর্তমান পরিস্থিতিতে একটি বড় ধরনের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারের মধ্যে ‘খেইবার শেকান’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠার পেছনে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট সামরিক সুবিধা রয়েছে। এটি অত্যন্ত নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে (হাই একুরেসি), দ্রুত উৎক্ষেপণযোগ্য এবং ট্রাকে করে সহজে মোতায়েন করা সম্ভব। তাছাড়া অন্যান্য ভারী ও জটিল ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় এটির উৎপাদন খরচও বেশ কম।
এই ক্ষেপণাস্ত্রটির কিছু উন্নত সংস্করণে এমন বিশেষ ওয়ারহেড যুক্ত করা হয়েছে যা বায়ুমণ্ডলে পুনরায় প্রবেশের পর স্বাধীনভাবে দিক পরিবর্তন করতে পারে। এই ওয়ারহেডে একটি ছোট ইঞ্জিন সংযুক্ত থাকে, যা উড্ডয়নের একেবারে শেষ মুহূর্তে বা টার্মিনাল ফেজে তীব্র গতিতে তার মূল গতিপথ বদলে ফেলে। আকস্মিক এই দিক পরিবর্তনের ফলে মার্কিন থাড (THAAD) বা প্যাট্রিয়টের মতো আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পক্ষেও একে মাঝআকাশে ধ্বংস করা অসম্ভব হয়ে উঠছে।







