রংপুরের মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার ঘটনায় ভারতীয় মিডিয়া ও ক্ষমতাচ্যুত দল আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও প্রপাগান্ডা ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার আসল কারণ ও জড়িতদের পরিচয় আড়াল করে বিষয়টিকে অহেতুক সাম্প্রদায়িক রূপ দেওয়ার চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, ইয়াবা সেবনের প্রতিবাদ ও ডাকাতির উদ্দেশ্যে এ নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়। এই ঘটনায় পুলিশ ইতোমধ্যে অভিযুক্ত হিসেবে স্থানীয় দুই যুবক সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে আটক করেছে। এছাড়া ঘটনার তদন্তের দায়িত্বে থাকা রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ ও সিআইডির শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে উপ-পুলিশ কমিশনার লিমন রায় ও ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার সুমিত চৌধুরী অন্যতম।
মামলার আসামি থেকে শুরু করে তদন্ত কর্মকর্তা—সব পক্ষই হিন্দু ধর্মাবলম্বী হওয়া সত্ত্বেও, ভারতীয় হিন্দুত্ববাদী বিভিন্ন গোষ্ঠী এবং আওয়ামী লীগের অফিসিয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পেজ থেকে ঘটনাটিকে ‘সাম্প্রদায়িক হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে। সাধারণ এক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বাংলাদেশে ইসলামপন্থীদের হামলা হিসেবে দেখিয়ে ভুল তথ্য ও প্রপাগান্ডা ছড়ানো হচ্ছে বলে বিশ্লেষণে দাবি করা হয়।
একইভাবে, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) তিন হিন্দু শিক্ষার্থীর পানিতে ডুবে মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনাটিকেও আওয়ামী লীগ ও সমমনা বিভিন্ন গোষ্ঠী একইভাবে সাম্প্রদায়িক রূপ দিয়ে প্রপাগান্ডা চালিয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। বাস্তব তথ্য উপাত্ত উপেক্ষা করে বাংলাদেশে অস্থিরতা তৈরি ও নেতিবাচক ভাবমূর্তি গড়ে তুলতেই এসব গুজব ছড়ানো হচ্ছে।







