মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিতে পরিচালিত সাম্প্রতিক এক দুঃসাহসিক বিমান হামলায় জিপিএস (GPS) কিংবা আধুনিক কোনো ডিজিটাল ন্যাভিগেশন ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়নি বলে দাবি করেছে ইরান। সম্পূর্ণ ম্যানুয়াল বা সনাতন পদ্ধতিতে পরিচালিত এই হামলায় ইরানি বিমানবাহিনীর পাইলটরা অনন্য রণকৌশলের পরিচয় দিয়েছেন।
ইরানের সেনাবাহিনীর বিমানবাহিনীর একজন শীর্ষ উপ-সমন্বয়কারী এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ওপর নির্ভর না করে তাঁদের পাইলটদের কেবল কাগজের মানচিত্র এবং প্রাথমিক বা প্রচলিত ন্যাভিগেশন পদ্ধতি ব্যবহার করে মিশন সম্পন্ন করার বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল।
অভিযানে জিপিএস কিংবা আইএনএস (ইনর্শিয়াল ন্যাভিগেশন সিস্টেম) ব্যবহার না করার পেছনে মূল উদ্দেশ্য ছিল রাডার ফাঁকি দেওয়া। এই প্রযুক্তিগুলো ব্যবহার না করায় আকাশসীমা দিয়ে ওড়ার সময় যুদ্ধবিমানগুলো থেকে কোনো ধরনের ইলেকট্রনিক বা ন্যাভিগেশন সিগন্যাল নির্গত হয়নি। ফলে মার্কিন অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও রাডারের পক্ষে এই যুদ্ধবিমানগুলোর উপস্থিতি শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
ইরানি সামরিক কর্মকর্তার মতে, তাঁদের সবচেয়ে বড় কৌশলগত সুবিধা ছিল শতভাগ ‘রেডিও নীরবতা’ বজায় রাখা। বিমান থেকে কোনো ধরনের বার্তা বা রেডিও সিগন্যাল প্রচার করা হয়নি। তিনি দাবি করেন, অভিযানের প্রথম দিন শত্রুপক্ষ ভাবতেও পারেনি যে কোনো ডিজিটাল সিগন্যাল ছাড়া কেবল প্রচলিত পদ্ধতিতে বিমানবাহিনী এমন একটি নিখুঁত ও দুঃসাহসিক অভিযান পরিচালনা করতে পারে।
মূলত কঠোর রেডিও নীরবতা এবং সনাতন ন্যাভিগেশন কৌশলের মেলবন্ধনে পুরো অপারেশনটি চরম গোপনীয়তার সাথে সফল করা সম্ভব হয় বলে দাবি করেছে তেহরান। এই ঘটনাটি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও ইরানি সামরিক শক্তির দ্বন্দ্বে এক নতুন মাত্রার কৌশলগত আলোচনার জন্ম দিয়েছে।







