বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের চুক্তিভিত্তিক এক কর্মচারীকে শিবির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এদিকে মারধরের ঘটনার পর নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ওই কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করেছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী মো. সাকিব খান। তিনি ইতিপূর্বে ২০২৩ থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগেও চুক্তিভিত্তিক কাজ করেছিলেন।
ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার (৫ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন আনন্দ বাজার এলাকায় চা খেতে যান সাকিব। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আল হাসান তৌফিক ও মাহমুদুল ইমরানসহ ১০ থেকে ১৫ জন নেতাকর্মী তাকে তুলে নিয়ে মারধর করে। ভুক্তভোগীর দাবি, তিনি শিবির করেন এবং শিবিরের কর্মসূচিতে লোকবল সরবরাহ করেন—এমন অভিযোগে তাকে মারধর করা হয়। পরে ছাত্রদল সভাপতি মোশাররফ হোসাইন এসে তার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনও চেক করেন।
মারধরের অভিযোগের বিষয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মোশাররফ হোসাইন বলেন, আনন্দ বাজার এলাকায় ঝামেলার খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান। সেখানে গিয়ে জানতে পারেন ওই ব্যক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টাফ এবং তিনি কিছু সন্দেহভাজন গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তবে মারধরের কোনো ঘটনা তিনি দেখেননি এবং এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে দাবি করেন।
চাকরিচ্যুতির বিষয়ে ভুক্তভোগী সাকিব জানান, মারধরের ঘটনার পরপরই রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অফিস সহায়ক হাসানুজ্জামান তাকে ফোন করে নিরাপত্তাজনিত কারণে কর্মস্থলে আসতে নিষেধ করেন। মূলত নিয়মিত কর্মচারীর এইচএসসি পরীক্ষার ছুটির কারণে গত ৫ জুলাই সাকিব খানকে দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। ১৫ আগস্ট সেই কর্মচারীর ফেরার কথা থাকলেও শিবির সংশ্লিষ্টতার জেরে ৫ আগস্টই তাকে আসতে মানা করা হয়।
তবে ভিন্ন কথা বলেছেন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি সহযোগী অধ্যাপক সুষ্মিতা রায়। তিনি জানান, অন্য একজনের পরিবর্তে সাকিব খানের সাথে এক মাসের একটি চুক্তি হয়েছিল এবং ঘটনাক্রমে বুধবারই ছিল তার চুক্তির শেষ দিন। মেয়াদ শেষ হওয়ার কারণেই তাকে কাজে আসতে নিষেধ করা হয়েছে। দুর্ভাগ্যবশত চুক্তির শেষ দিনেই তার সাথে মারধরের ঘটনাটি ঘটেছে, তবে চাকরি শেষ হওয়া ও মারধরের ঘটনার মধ্যে কোনো সম্পর্ক নেই। এই বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।







