সাতক্ষীরার শ্যামনগরে এক হিন্দু নারীর ঘরে আপত্তিকর অবস্থায় মো. আব্দুল মান্নান নামে এক যুবদল নেতাকে হাতেনাতে আটক করেছে স্থানীয় জনতা। আটকের পর উত্তেজিত জনতা তাকে বিবস্ত্র অবস্থায় উত্তম-মধ্যম দেয়। ঘটনার একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা মুহূর্তের মধ্যেই ভাইরাল হয়ে যায়।
গত বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার হরিনগর গ্রামে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। আটক হওয়া আব্দুল মান্নান শ্যামনগর পৌরসভার চন্ডিপুর গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে এবং পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের বর্তমান সভাপতি বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী ওই নারী এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার জন্য পুরোপুরি যুবদল নেতা আব্দুল মান্নানকে দায়ী করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন স্পর্শকাতর বিষয়ে ব্লাকমেইল করে মান্নান প্রায়শই তার বাড়িতে গিয়ে কুপ্রস্তাব ও উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার রাতে বাজার পৌঁছে দেওয়ার অজুহাতে মান্নান জোরপূর্বক তার ঘরে ঢোকেন এবং ধর্ষণের চেষ্টা চালান। এ সময় টের পেয়ে স্থানীয় লোকজন এসে তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন।
এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে উপজেলা যুবদলের কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা রাতেই দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তারা ক্ষুব্ধ জনতার হাত থেকে মারধরের শিকার ওই যুবদল নেতাকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে আসেন। এই ঘটনা নিয়ে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, যুবদল নেতা আব্দুল মান্নানের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ এবারই প্রথম নয়। এর আগে গত বছর, অর্থাৎ ২০২৫ সালের ৭ জুলাই অন্য একজনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে জোরপূর্বক ঢুকে চাঁদা দাবির সুনির্দিষ্ট অভিযোগে পৌর যুবদলের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। নতুন করে এই নৈতিক স্খলনের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে আবারও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে গুঞ্জন চলছে।







