মৌলভীবাজার-৩ (সদর-রাজনগর) আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য এম. নাসের রহমানকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি আপত্তিকর উলঙ্গ ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে পারভেজ আলম খান (৩২) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। শনিবার (৮ আগস্ট) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ঢাকার সাভার এলাকার মধ্য রাজাশন থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া পারভেজ আলম খান মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার পতনউষার ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি সাভারের ওই এলাকায় বসবাস করছিলেন। এই মামলায় তিনি এজাহারনামীয় ২য় গ্রেপ্তারকৃত আসামি। এর আগে এই একই মামলায় সৈয়দ তানভীর নামে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করেছিল ডিবি।
ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওটিতে দেখা যায়, সংসদ সদস্য নাসের রহমান অপর প্রান্তের অন্য এক ব্যক্তির সাথে আপত্তিকর অবস্থায় রয়েছেন এবং নিজের যৌনাঙ্গ প্রদর্শন ও নাড়াচাড়া করছেন। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নাসের রহমান তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে এটিকে ‘ফেক’ বা ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি’ দাবি করে একটি বিবৃতি পোস্ট করেন, যা পরবর্তীতে আবার মুছে (ডিলিট) ফেলা হয়। এরপর এই ঘটনায় ৫ জনকে আসামি করে একটি সাইবার মামলা দায়ের করা হয়।
নাসের রহমান ভিডিওটিকে এআই বা প্রযুক্তির কারসাজি বলে দাবি করলেও বিভিন্ন স্বাধীন ফ্যাক্ট চেকিং ও তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান ভিডিওটি পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করে ভিন্ন তথ্য জানিয়েছে। ফ্যাক্ট চেকারদের মূল্যায়ন ও প্রতিবেদন অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই আপত্তিকর ভিডিওটি কোনো এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি নকল ভিডিও নয়, বরং এটি সম্পূর্ণ আসল বা জেনুইন ভিডিও। ফ্যাক্ট চেকিং প্রতিষ্ঠানগুলোর এই স্পষ্ট রিপোর্টের পর বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মাঝে নতুন করে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
মৌলভীবাজার জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সুদীপ্ত শেখর ভট্টাচার্য্য জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে ইতিমধ্যে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম পুরোদমে চলমান রয়েছে এবং এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পেছনে থাকা অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে জেলা গোয়েন্দা শাখা কাজ করে যাচ্ছে।







