জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ‘সাধারণ শিক্ষার্থী’র ব্যানারে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু) নেতৃবৃন্দের ওপর হামলাকারী ছাত্রদল কর্মীদের মাধ্যমেই উপাচার্য (ভিসি) বরাবর স্মারকলিপি প্রদানের ঘটনা ঘটেছে। একই সাথে এই স্মারকলিপি প্রদানের ছবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশ এবং সেখানে মন্তব্যের অপশন বন্ধ করে রাখায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ও ভিডিওর প্রমাণসহ অভিযোগ করা হয়েছে, ক্যাম্পাসে শিবিরের চলমান রাজনীতি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ‘সাধারণ শিক্ষার্থী’ সেজে উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি দিতে যাওয়া ব্যক্তিদের একজন খন্দকার নাবিল ইসলাম। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের ২১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। গত ৪ আগস্ট জকসুর নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আব্দুল আলিম আরিফের ওপর ছাত্রদলের নৃশংস হামলার ঘটনায় এই নাবিল সরাসরি জড়িত ছিলেন এবং জিএস-কে লাথি মেরে বের করে দেওয়ার ভিডিও ফুটেজও শিক্ষার্থীদের কাছে রয়েছে।
আন্দোলনরত সাধারণ শিক্ষার্থীরা বলছেন, ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে নৃশংস হামলা চালিয়ে রক্তাক্ত পরিবেশ তৈরি করল, আবার তারাই উল্টো ছাত্রশিবিরকে দোষারোপ করে ক্যাম্পাসে মিছিল ও উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি দিচ্ছে। এই ঘটনাকে শিক্ষার্থীরা ‘নির্মম উপহাস’ ও ‘মিথ্যাচার’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাদের অভিযোগ, বর্তমান বিএনপিপন্থী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও এই হামলায় জড়িতদের আশ্রয় দিচ্ছে এবং শতাধিক গণমাধ্যমের সামনে ঘটা এই সন্ত্রাসী হামলার সিসিটিভি ফুটেজ এখনও সাংবাদিক বা প্রশাসনের তদন্ত কমিটির কাছে হস্তান্তর করা হয়নি।
পরিসংখ্যান বিভাগের ২০তম আবর্তনের শিক্ষার্থী সাফায়েত রহমান খানসহ একাধিক সাধারণ শিক্ষার্থী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, হামলার শিকার জকসু নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেই চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের দিয়ে এই স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়েছে। আর প্রশাসন সেই ছবি বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল পেজে পোস্ট করে শিক্ষার্থীদের সমালোচনার ভয়ে কমেন্টবক্স বন্ধ করে দিয়েছে। এই ঘটনাকে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিশিয়াল পেজ ও প্রশাসনের সম্পূর্ণ ‘দলীয়করণ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
ক্যাম্পাসে এই হামলার পর থেকেই প্রতিনিয়ত বিভিন্ন বিভাগের সাধারণ শিক্ষার্থীরা দোষী ছাত্রদল কর্মীদের বিচার চেয়ে বিক্ষোভ ও আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। সাধারণ ছাত্রনেতারা নবীন শিক্ষার্থীদের এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা স্পষ্ট করে বলেছেন, ক্যাম্পাসে কারা সন্ত্রাস সৃষ্টি করছে আর কারা সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকারের পক্ষে কথা বলছে, তা এখন সবার কাছে পরিষ্কার হয়ে গেছে এবং প্রশাসনের এমন পক্ষপাতমূলক আচরণ হিতে বিপরীত হবে।







