ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যেই আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এক বিতর্কিত ও ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিল লাতিন আমেরিকার দেশ কলম্বিয়া। দেশটিতে যখন ৭.৪ মাত্রার এক শক্তিশালী ও বিধ্বংসী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে, ঠিক তখনই এক আকস্মিক কূটনৈতিক ঘোষণায় সিরিয়ার গোলান মালভূমির ওপর ইসরায়েলি সার্বভৌমত্বকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়েছে কলম্বিয়ার নতুন সরকার। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের চরম সংকটের মুহূর্তে এমন সংবেদনশীল রাজনৈতিক ঘোষণা বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করেছে।
আমেরিকার পর বিশ্বমঞ্চে কলম্বিয়াই দ্বিতীয় দেশ হিসেবে ইসরায়েলের এই বিতর্কিত দখলদারিত্বকে বৈধতা দিল। এর আগে ২০১৯ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক দশকের দীর্ঘ কূটনৈতিক নীতি থেকে সম্পূর্ণ সরে এসে একটি ঐতিহাসিক ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেছিলেন, যার মাধ্যমে ওয়াশিংটন প্রথম গোলান মালভূমির ওপর ইসরায়েলি সার্বভৌমত্বকে স্বীকৃতি দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের সেই পথ অনুসরণ করেই এবার লাতিন অঞ্চল থেকে প্রথম দেশ হিসেবে কলম্বিয়া এই পদক্ষেপ নিল।
উল্লেখ্য, গোলান হলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত একটি পাহাড়ি মালভূমি, যা ১৯৬৭ সালের ঐতিহাসিক ‘ছয় দিনের যুদ্ধে’ সিরিয়ার কাছ থেকে সামরিক শক্তিতে দখল করে নিয়েছিল ইসরায়েল। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও জাতিসংঘ এই অঞ্চলটিকে ইসরায়েলের অবৈধ দখলকৃত অংশ হিসেবে বিবেচনা করে আসলেও, একদিকে ভূমিকম্পের প্রলয় আর অন্যদিকে কলম্বিয়া সরকারের এই নতুন অবস্থান মধ্যপ্রাচ্য ও আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে যাচ্ছে।







