মৌলভীবাজারের কুলাউড়া সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হওয়ার ৩৬ ঘণ্টা পর লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে। গতকাল সোমবার বিকেলে উপজেলার চাতলাপুর শুল্ক স্টেশন ও ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট এলাকায় ভারতীয় পুলিশ আইনি প্রক্রিয়া শেষে কুলাউড়া থানা পুলিশের কাছে মরদেহটি বুঝিয়ে দেয়। নিহত যুবকের নাম তারা মিয়া (১৯), তিনি উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের মুরইছড়া বস্তির বাসিন্দা আব্দুল মালেকের ছেলে।
লাশ হস্তান্তরের আগে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও পুলিশের মধ্যে একটি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে কুলাউড়া থানার ওসি শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না, বিজিবির ৪৬ ব্যাটালিয়নের আলীনগর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার কাজী নাসিম এবং ভারতের পক্ষে ত্রিপুরার ইরানি থানার ইন্সপেক্টর শ্রীকান্ত চক্রবর্তী ও বিএসএফের মাগুরউলী ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার এসি রোহিত উপস্থিত ছিলেন। পরে বিকেল ৫টার দিকে তারা মিয়ার বড় ভাই রাজু মিয়ার কাছে লাশটি হস্তান্তর করা হয়।
বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রবিবার ভোরে তারা মিয়াসহ কর্মধা ইউনিয়নের আরও কয়েকজন যুবক পৃথিমপাশা ইউনিয়নের আলীনগরের শিকরিয়া সীমান্ত দিয়ে ভারতের মাগুরউলী এলাকায় প্রবেশ করেন। বিজিবির ধারণা, সিগারেট ও বিড়িসহ বিভিন্ন চোরাই পণ্য আনার উদ্দেশ্যে তারা সেখানে গিয়েছিলেন। এ সময় ভারতীয় সীমান্তের ভেতরে বিএসএফের মাগুরউলী ক্যাম্পের একটি টহল দল তাদের গতিরোধ করার চেষ্টা করলে উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে বিএসএফ সদস্যরা গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই তারা মিয়া নিহত হন এবং তাঁর সঙ্গীরা পালিয়ে বাংলাদেশে এসে আত্মগোপন করেন।
ছেলের মৃত্যুর পর কান্নায় ভেঙে পড়ে তারা মিয়ার মা আজিরুন্নেছা বলেন, তাঁর ছেলে কখনো চোরাকারবারের সঙ্গে জড়িত ছিল না। স্থানীয় সুমনসহ কয়েকজন টাকার লোভ দেখিয়ে তাঁকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। তিনি বাধা দিলেও ছেলে শোনেনি। পরে বিএসএফ তাঁর ছেলেকে গুলি করে বুক খালি করে দিল। কুলাউড়া থানার ওসি শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না জানান, দুই দেশের যাবতীয় আইনি প্রক্রিয়া ও ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহটি তাঁর পরিবারের কাছে দাফনের জন্য বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে ৪৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ জানান, বাংলাদেশি তরুণকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় পতাকা বৈঠকে বিএসএফ কর্মকর্তাদের কাছে কঠোর ও আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত এলাকায় কিছু উঠতি বয়সী যুবক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছেন। এ ধরনের অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান বন্ধ করতে বিজিবির পক্ষ থেকে স্থানীয় সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে এবং সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল আরও বাড়ানো হবে।







