সরকারি আদেশ অমান্য করে দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা, বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগ না দেওয়া এবং ‘পলায়ন’-এর অভিযোগে বাংলাদেশ পুলিশ ক্যাডারের ছয় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত করেছে সরকার।
বুধবার (১২ আগস্ট) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের শৃঙ্খলা-১ শাখা থেকে জারি করা পৃথক ছয়টি প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির অনুমোদন এবং বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (বিপিএসসি) পরামর্শক্রমে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
চাকরিচ্যুত কর্মকর্তারা হলেন—ডিএমপির সাবেক যুগ্ম পুলিশ কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (অতিরিক্ত ডিআইজি) সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, সাবেক উপ-পুলিশ কমিশনার কাজী আশরাফুল আজীম, সাবেক উপ-পুলিশ কমিশনার ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাজন কুমার দাস এবং সহকারী পুলিশ কমিশনার (পিপিএম) মো. গোলাম রুহানী। গোলাম রুহানী ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানীর ছোট ভাই।
যেসব অভিযোগে চাকরিচ্যুতি
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বিপ্লব কুমার সরকার বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত থাকা অবস্থায় ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট থেকে অনুমতি ছাড়াই কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। তদন্তে তার বিরুদ্ধে ‘পলায়নের’ অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ওই তারিখ থেকে বরখাস্ত কার্যকর করা হয়েছে।
সুদীপ কুমার চক্রবর্তী ২২ আগস্ট ২০২৪ থেকে অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন।
একাধিক নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি কাজে ফেরেননি। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকেও একই তারিখ থেকে চাকরিচ্যুত করা হয়।
কাজী আশরাফুল আজীমকে চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে বদলি করা হলেও তিনি সেখানে যোগ দেননি। ১৪ আগস্ট ২০২৪ থেকে অনুমতি ছাড়া অনুপস্থিত থাকার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে ‘অসদাচরণ’ ও ‘পলায়নের’ অভিযোগ প্রমাণিত হয়।
মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন ২৮ আগস্ট ২০২৪ থেকে অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। তদন্তে তার বিরুদ্ধেও ‘পলায়ন’ ও ‘অসদাচরণ’-এর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে উদ্দেশ করে তার কথিত একটি মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাজন কুমার দাস কক্সবাজারের ৮ এপিবিএনে কর্মরত ছিলেন। পাঁচ দিনের ছুটি শেষে ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর তার কাজে ফেরার কথা থাকলেও তিনি আর কর্মস্থলে যোগ দেননি। ৬০ দিনের বেশি অননুমোদিত অনুপস্থিতির পর তদন্তে তার বিরুদ্ধে ‘পলায়ন’ ও ‘অসদাচরণ’-এর অভিযোগ প্রমাণিত হয়।
অন্যদিকে, মো. গোলাম রুহানী ডিএমপি থেকে খাগড়াছড়ির এপিবিএনে বদলি হওয়ার পর ১১ আগস্ট ২০২৪ থেকে নতুন কর্মস্থলে যোগ দেননি। তদন্ত ও বিপিএসসির পরামর্শের ভিত্তিতে ওই তারিখ থেকেই তার চাকরিচ্যুতি কার্যকর করা হয়েছে।
তদন্তের পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী প্রত্যেক কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ তদন্তে পৃথক তদন্তকারী কর্মকর্তাও নিয়োগ করা হয়।
তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কেউই অভিযোগের জবাবে লিখিত ব্যাখ্যা দাখিল করেননি। পরবর্তী তদন্তে তাদের বিরুদ্ধে ‘পলায়ন’ ও ‘অসদাচরণ’-এর অভিযোগ প্রমাণিত হয়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে বিপিএসসির পরামর্শ এবং রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৪(৩)(১)(ঘ) বিধি অনুযায়ী ছয় কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে চূড়ান্তভাবে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।







