ফিলিস্তিনের নিপীড়িত জনগণের পাশে দাঁড়ানো কোনো একক রাষ্ট্রের বিষয় নয়, বরং এটি বিশেষ করে মুসলিম বিশ্বসহ পুরো মানবজাতির যৌথ ও নৈতিক দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান। গত বুধবার (১২ আগস্ট) আঙ্কারার প্রেসিডেন্সিয়াল প্যালেসে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে আয়োজিত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই কথা বলেন। তুরস্ক ফিলিস্তিনিদের ন্যায়সংগত অধিকার আদায়ে আন্তর্জাতিক সব প্ল্যাটফর্মে অতীতের মতোই জোরালো ও অগ্রণী ভূমিকা পালন করে যাবে বলেও তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তুর্কি প্রেসিডেন্ট ইসরায়েলের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর উগ্রপন্থী সরকার পুরো বিশ্বের চোখের সামনে দখলীকৃত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে একের পর এক অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। তারা সুপরিকল্পিতভাবে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের চূড়ান্ত অস্তিত্বকে মানচিত্র থেকে মুছে ফেলার অপচেষ্টা করছে, যা বিশ্ববাসীর জন্য কোনোভাবেই এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।
জাতিসংঘের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানের উদ্ধৃতি দিয়ে এরদোয়ান উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, চলমান ২০২৬ সালেই ইসরায়েলি দখলদারদের চরম সহিংসতা, উচ্ছেদ অভিযান এবং বসতবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়ার কারণে ইতিমধ্যে প্রায় ৩ হাজার ৮০০ ফিলিস্তিনি নাগরিক সম্পূর্ণ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। এছাড়া ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে ও হামলায় নিহত হয়েছেন অন্তত ১০০ জন ফিলিস্তিনি। এই ভয়াবহ পরিস্থিতিকে একটি পদ্ধতিগত ও পৈশাচিক দখলদারিত্ব বলে আখ্যা দেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট।
এরদোয়ান স্পষ্ট করে বলেন, নেতানিয়াহু সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে মধ্যপ্রাচ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে আন্তর্জাতিক অঙ্গন ও বিশ্ব মিডিয়ার মনোযোগ থেকে ফিলিস্তিন ইস্যুটিকে আড়াল করার অপচেষ্টা করছে, কিন্তু তাদের এই চাল কখনোই সফল হবে না। তিনি ১৯৬৭ সালের আন্তর্জাতিক সীমানার ভিত্তিতে পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন, অখণ্ড ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের পক্ষে আঙ্কারার ঐতিহাসিক ও অনড় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।
একই সাথে তুর্কি প্রেসিডেন্ট যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকার দ্রুত পুনর্গঠন কাজ শুরু করা এবং মুসলমানদের প্রথম কেবলা পবিত্র আল আকসা মসজিদসহ অন্যান্য ধর্মীয় পবিত্র স্থানগুলোর বর্তমান ঐতিহাসিক স্থিতি ও মর্যাদা বজায় রাখার ওপর বিশেষ জোর দেন। এছাড়া ফিলিস্তিনের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ঐক্য সুসংহত করতে সে দেশে আসন্ন আইনসভা ও প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান এরদোয়ান।







