আলমগীর পদত্যাগ করায় দলটির গুরুত্বপূর্ণ এ পদটি এখন শূন্য। ফলে নতুন মহাসচিব কে হচ্ছেন, তা নিয়ে দলের ভেতরে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন চার নেতা—সালাহউদ্দিন আহমদ, রুহুল কবির রিজভী, শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি ও হাবিব উন নবী খান সোহেল।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, মহাসচিব কে হচ্ছেন তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে।
দলের একাধিক সূত্রের দাবি, মহাসচিব পদ শূন্য হওয়ার পর গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পেতে পারেন। পরে চলতি বছরের ডিসেম্বর কিংবা আগামী জানুয়ারিতে কাউন্সিল হলে তাকে পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব করা হতে পারে।
তবে রিজভীর পাশাপাশি স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নামও জোরালোভাবে আলোচনায় রয়েছে। কোনো কারণে এই দুই নেতার কেউ দায়িত্ব না পেলে সাবেক ছাত্রনেতা শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি অথবা হাবিব উন নবী খান সোহেলকে বিবেচনা করা হতে পারে।
কেন আলোচনায় সালাহউদ্দিন ও রিজভী
দলীয় সূত্রগুলো বলছে, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, রাজপথের আন্দোলনে ভূমিকা এবং দলের প্রতি আনুগত্যের কারণে সালাহউদ্দিন আহমদ ও রুহুল কবির রিজভীর সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি।
দলীয় সূত্রগুলো বলছে, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, রাজপথের আন্দোলনে ভূমিকা এবং দলের প্রতি আনুগত্যের কারণে সালাহউদ্দিন আহমদ ও রুহুল কবির রিজভীর সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি।
স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণে অভিজ্ঞতা, আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা, দীর্ঘদিন গুমের শিকার থাকা এবং সংসদের ভেতরে-বাইরে বক্তব্য দেওয়ার দক্ষতার কারণে তিনি আলোচনায় রয়েছেন।
অন্যদিকে রুহুল কবির রিজভীর দীর্ঘদিন দলের সাংগঠনিক ও দপ্তর কার্যক্রম পরিচালনার অভিজ্ঞতা রয়েছে। গত দেড় দশকে মামলা, হামলা ও গ্রেপ্তারের মধ্যেও তিনি নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সক্রিয় ছিলেন। আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে তার সরব উপস্থিতি এবং দলের প্রতি দীর্ঘদিনের আনুগত্যও তাকে মহাসচিব পদের অন্যতম সম্ভাব্য প্রার্থী করেছে।
আলোচনায় এ্যানি ও সোহেল
সালাহউদ্দিন আহমদ ও রিজভীর পাশাপাশি বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এবং হাবিব উন নবী খান সোহেলের নামও আলোচনায় রয়েছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ ও রিজভীর পাশাপাশি বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এবং হাবিব উন নবী খান সোহেলের নামও আলোচনায় রয়েছে।
শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি ছাত্রদলের মাধ্যমে রাজনীতিতে যুক্ত হন এবং দীর্ঘদিন রাজপথের আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। বিভিন্ন সময়ে কারাবরণসহ রাজনৈতিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তিনি। দলের নেতাকর্মীদের কাছে তার পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তিও মহাসচিব পদে বিবেচনার একটি কারণ বলে জানা গেছে।
হাবিব উন নবী খান সোহেলও ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি হিসেবে বিএনপির রাজনীতিতে দীর্ঘদিন সক্রিয়। ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দল পরিচালনার পাশাপাশি বিএনপির কঠিন সময়েও রাজপথে তার উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য। সরকারবিরোধী আন্দোলনে একাধিকবার গ্রেপ্তার হলেও দলের প্রতি আনুগত্য ধরে রেখেছেন তিনি।
এ বিষয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী একজন ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব দায়িত্ব পালন করবেন। পরবর্তীতে কাউন্সিলের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব নির্বাচন করা হবে। এর বাইরে আপাতত কিছু বলা সম্ভব নয়।
তবে দলীয় মহলে আলোচনা রয়েছে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের রাজনৈতিক কৌশল ও কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের ওপর।







