ইরানের সামরিক হামলার মুখে পড়ে সাগরে অবস্থানরত মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোতে সৃষ্টি হয়েছে চরম রসদ সংকট ও মানবিক বিপর্যয়। যুদ্ধের শুরুর দিকে বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর প্রধান রসদ ও সরবরাহ কেন্দ্রে ইরান ভয়াবহ হামলা চালালে ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’সহ মার্কিন রণতরীগুলোর সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে।
ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের সম্ভাব্য ঝুঁকির কারণে বাধ্য হয়ে যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রধান রসদ কেন্দ্রটি বাহরাইন থেকে প্রায় ৩,৫৪০ কিলোমিটার দূরে ভারত মহাসাগরের ‘দিয়াগো গার্সিয়া’ দ্বীপে স্থানান্তরিত করে। তবে এই বিপুল দূরত্বের কারণে সাগরে দায়িত্বরত যুদ্ধজাহাজগুলোতে সময়মতো খাদ্য, পানি ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে, যা গভীর সংকটের সৃষ্টি করেছে।
এর ওপর আশপাশের বন্দরগুলো সরাসরি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের আওতাভুক্ত থাকায় নিরাপত্তার স্বার্থে কোনো বন্দরে নোঙর করার সুযোগ পাচ্ছে না জাহাজগুলো। কোনো ধরনের পর্যাপ্ত বিশ্রাম ছাড়াই একটানা নয় মাস ধরে সাগরে ভেসে থাকতে বাধ্য হওয়ায় ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’-এর নাবিক ও সেনাসদস্যরা চরম শারীরিক ক্লান্তি এবং মানসিক অবসাদে ভেঙে পড়েছেন।
মার্কিন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মতে, নতুন সরবরাহ কেন্দ্র দিয়াগো গার্সিয়াও পুরোপুরি নিরাপদ নয়। গত ২০ মার্চ সেখানে দুটি শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল ইরান। যদিও এর একটি সরাসরি সাগরে গিয়ে পড়ে এবং অন্যটি মাঝআকাশেই মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করে দেয়, কিন্তু এই ঘটনা কেন্দ্রটির নিরাপত্তা ও রসদ সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।







