চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিরসনে বিরোধী দলগুলোর কাছে প্রধানমন্ত্রী কার্যকর পরিকল্পনা চাওয়ার পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। তবে দলটি জানিয়েছে, এমন পরিকল্পনা তিন মাস আগেই সরকারের কাছে জমা দেওয়া হয়েছিল। তাই নতুন পরিকল্পনা চাওয়ার বদলে আগে জমা দেওয়া প্রস্তাবের বাস্তবায়নের অগ্রগতি কত দূর, তা স্পষ্ট করার আহ্বান জানিয়েছে তারা।
রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর মগবাজারে আল-ফালাহ মিলনায়তনে ‘চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট এবং জনদুর্ভোগ নিয়ে’ আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিঞা গোলাম পরওয়ার এসব কথা বলেন। এ সময় লিখিত বক্তব্যে তিনি সরকারের কাছে জমা থাকা সুপারিশগুলোর বর্তমান অবস্থা জানতে চান।
মিঞা গোলাম পরওয়ার জানান, গত ২১ মে জাতীয় সংসদের জ্বালানি সংকটসংক্রান্ত বিশেষ কমিটিতে জামায়াতের তিন সদস্যসহ বিরোধী দলের পাঁচ প্রতিনিধি লিখিতভাবে ১০ দফা সুপারিশ জমা দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ৭ জুন জ্বালানিমন্ত্রী নিজে সেই প্রতিবেদন জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করেন। ফলে মূল প্রশ্নটি নতুন পরিকল্পনার নয়, বরং বিদ্যমান পরিকল্পনার কতটুকু বাস্তবায়িত হয়েছে তা জানানো।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ১৪ আগস্ট জামায়াতের আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় জাতীয় সংসদের জরুরি অধিবেশন আহ্বানের দাবি জানিয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে চিঠি দিয়েছেন, যার অনুলিপি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়েও পাঠানো হয়েছে। তবে সেই আবেদনের বিষয়ে এখনও কোনো আশানুরূপ সাড়া পাওয়া যায়নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন গোলাম পরওয়ার।
সরকারের কাছে জমা দেওয়া ১০ দফা প্রস্তাবের কথা উল্লেখ করে জামায়াত নেতা জানান, দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে বিদ্যমান কূপে ওয়ার্কওভার করা, ভোলা, জামালপুর ও জকিগঞ্জের গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা, স্থল ও সমুদ্রে অনুসন্ধান জোরদার করা এবং রুফটপ সোলার সম্প্রসারণের মতো বাস্তবসম্মত পদক্ষেপের কথা আগেই বলা হয়েছিল। এছাড়া সংকট মোকাবিলায় ভবিষ্যতে স্বাধীন বিশেষজ্ঞ ও অংশীজনদের সম্পৃক্ত করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল।
হারিকেন নিয়ে প্রতিবাদের ঘটনাকে প্রধানমন্ত্রীর ‘হঠকারিতা’ আখ্যা দেওয়ার বিষয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, হারিকেন হচ্ছে রাজনৈতিক প্রতিবাদের প্রতীক, এটি দিয়ে সামগ্রিক সংকট খণ্ডন করা যায় না। মানুষ অরাজকতা চায় না; গৃহিণী চুলায় গ্যাস, শ্রমিক কারখানায় উৎপাদন এবং সাধারণ মানুষ নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ চান। তাই এই দাবির জবাব রাজনৈতিক ব্যঙ্গ দিয়ে না দিয়ে কার্যকর সমাধানের মাধ্যমে দেওয়া উচিত।
সংবাদ সম্মেলনে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে বাস্তবায়নযোগ্য ছয়টি সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের প্রস্তাব দেওয়া হয়। এগুলোর মধ্যে রয়েছে—দ্রুত ফলদায়ক কূপের তালিকা প্রকাশ ও কাজ শুরু করা, বন্ধ কূপের হিসাব দেওয়া, ভোলার গ্যাস সিএনজি বা এলএনজি আকারে ব্যবহারের ব্যবস্থা, সিস্টেম লস ও অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা, গ্যাস বণ্টনের সময়সূচি প্রকাশ করা এবং এসপিএম প্রযুক্তি দ্রুত কার্যকর করা।
প্রশাসনিক জটিলতা দূর করতে চারটি প্রশাসনিক সংস্কারের জোর দাবি জানায় জামায়াত। যার মধ্যে রয়েছে—একটি ‘ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি এনার্জি সেল’ গঠন করা, পেট্রোবাংলা ও বাপেক্সকে জরুরি কাজের জন্য সীমিত অনুমোদন ক্ষমতা দেওয়া, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বাস্তবায়ন ও ট্যারিফ তথ্য প্রকাশ এবং অগ্রাধিকার প্রকল্প তদারকিতে একক ব্যবস্থা চালু করা।
সবশেষে জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, বিরোধী দল সরকারকে ব্যর্থ দেখতে চায় না, কারণ জ্বালানি সংকটে দেশ ও সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, প্রস্তাবিত ১০ দফা ও সংসদীয় কমিটির ১২ দফার ভিত্তিতে একটি যৌথ বাস্তবায়ন কাঠামো গঠন করে আজ থেকেই কাজ শুরু করা হোক এবং ৯০ দিন পর জাতীয় সংসদে তার অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হোক।







